কেন বিষধর নীল সাপ পুষছে চীনা তরুণ-তরুণীরা?

অনলাইন ডেস্ক

চীনের বাজারে এখন এক অদ্ভুত উন্মাদনা। তবে বিড়াল বা কুকুরের মতো কোনো নিরীহ প্রাণীকে ঘিরে নয় বরং নীল রঙের এক অত্যন্ত বিষাক্ত সাপকে নিজের শোবার ঘরে ঠাঁই দিতে মেতেছেন সে দেশের তরুণ-তরুণীরা।

মূলত ডিজনির জনপ্রিয় অ্যানিমেটেড সিনেমা ‘জুটোপিয়া ২’ মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই এই হিড়িক শুরু হয়েছে। সিনেমার একটি বিশেষ চরিত্র ‘গ্যারি ডি’স্নেক’ চীনা দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে। নিমেমাটির আদল তৈরি করা হয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পাওয়া নীল পিট ভাইপারের ওপর ভিত্তি করে। সিনেমার সেই প্রিয় চরিত্রের হুবহু নীল সাপটিকে হাতের কাছে পাওয়ার নেশায় কয়েক হাজার ইউয়ান খরচ করতেও দ্বিধা করছেন না দেশটির যুবসমাজ।

এই নীল পিট ভাইপার, যার বৈজ্ঞানিক নাম ‘ট্রাইমেরেসুরাস ইনসুলারিস’। এই সাপ দেখতে যতটা মনোমুগ্ধকর, এর বিষ ঠিক ততটাই কালান্তক। এদের চোখ ও নাকের মাঝখানে থাকা বিশেষ সংবেদী স্নায়ু বা পিটের মাধ্যমে এরা শিকারের শরীরের উষ্ণতা নির্ভুলভাবে বুঝতে পারে এবং চোখের পলকে আক্রমণ চালায়।

যদিও সঠিক সময়ে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করলে প্রাণহানির ঝুঁকি কিছুটা কম। তবে এই সাপের তীব্র হেমোটক্সিক বিষে আক্রান্ত স্থানে পচন ধরতে পারে কিংবা শরীরের কোনো অঙ্গ স্থায়ীভাবে বিকল হয়ে যেতে পারে। তা সত্ত্বেও শখের বশে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে এই বিপজ্জনক সাপ কেনার ধুম পড়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বহু ই-কমার্স সাইট ইতিমধ্যে এই সাপের বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে কালোবাজারে এদের দাম এখন আকাশছোঁয়া।

চীনের আইন অনুযায়ী বিষাক্ত প্রাণী বা বিপজ্জনক বস্তু কুরিয়ারে পাঠানো নিষিদ্ধ হলেও আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে গোপনে চলছে এই কেনাবেচা। অনেকেই বাড়ির ছোট ড্রয়িং রুম কিংবা ব্যক্তিগত সংগ্রহশালায় কাঁচের বাক্সে বন্দি করে রাখছেন এই মরণঘাতী বিষধরকে। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, চীনে বিদেশি ও অদ্ভুত ধরনের পোষ্য রাখার প্রবণতা গত কয়েক বছরে বহুগুণ বেড়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় হাজার কোটি ইউয়ানে পৌঁছেছে। তবে এই নতুন শখ প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, কোনোভাবে যদি এই বিষাক্ত সাপ মানুষের ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে যায় বা লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ে, তবে তা বড়সড় জননিরাপত্তার সংকট তৈরি করতে পারে। রূপালি পর্দার মোহ যে সাধারণ মানুষের জীবনের জন্য এমন ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে, তা নিয়ে এখন সরগরম চীনের সচেতন মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights