খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে চলা দায়
নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা
প্রায় ১৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও মেরামত কাজ শেষ হয় ২০২০ সালে। কিন্তু নির্মাণকাজের পরবর্তী কয়েক বছরের মধ্যে পিচ উঠে বড় বড় গর্ত ও সড়কের এক পাশে লম্বালম্বি রেললাইনের মতো উঁচু হয়ে যায়। এ অবস্থায় কয়েক দফায় সংস্কারকাজ, রক্ষণাবেক্ষণে আরও ২০-২৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু স্থায়ী সংস্কারের বদলে ইটের সলিং দিয়ে মেরামতে জোড়াতালি দেওয়ায় কিছুদিনের মধ্যে সড়কটি ফের খানাখন্দে বিপজ্জনক অবস্থার সৃষ্টি হয়। সর্বশেষ ৮ জুলাই থেকে ১১ জুলাই চার দিনের অতিবৃষ্টিতে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে খানাখন্দ ও বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টিতে এসব গর্ত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে ৮ জুলাই হরিণটানা পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের সামনে ট্রাক-ইজিবাইকের সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়। বৃষ্টিভেজা সড়কে সাতক্ষীরাগামী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুটি ইজিবাইকে ধাক্কা দিয়ে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই একটি ইজিবাইকের চালক ও এক যাত্রী নিহত হয়।
ডুমুরিয়া আটলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিন বলেন, অতিরিক্ত ওজনের যানবাহন চলাচল, দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ এবং মানসম্মত সংস্কারের অভাবে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্থানে সড়কে লম্বালম্বি ঢেউয়ের মতো সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়ছে। সরেজমিন দেখা যায়, খুলনার নিজখামার, হোগলাডাঙ্গা, ডুমুরিয়া, চুকনগর, হরিণটানা পল্লীবিদ্যুৎ অফিসসংলগ্ন এলাকায় সড়কের অবস্থা সবচেয়ে বেশি নাজুক। বিভিন্ন অংশে পিচ ও খোয়া উঠে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চলন্ত যানবাহন হঠাৎ ভারসাম্য হারাচ্ছে ও প্রায়ই ছোটবড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এই রুটে চলাচলকারী বাসচালক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, বছরের পর বছর ধরে সড়কটি বিভিন্ন অংশ বেহাল থাকলেও টেকসই সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। বরং ভাঙা অংশে কিছু ইটপাটকেল ফেলে কিংবা অস্থায়ী মেরামতের মাধ্যমে দায় সারার প্রবণতাই বেশি দেখা গেছে। তবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক বলেন, সড়কে জিরো পয়েন্ট থেকে চুকনগর পর্যন্ত তিনটি অংশে টেকসই নির্মাণকাজে কংক্রিটের ঢালাই দেওয়া হয়েছে। আরও ১০ কিলোমিটার অংশের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এসব কাজ শেষ হলে সড়কে চলাচলে ভোগান্তি কমবে।
