সড়কে বাতি জ্বালিয়ে রাসিকের দেনা ৪২ কোটি টাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
রাতের আঁধার কাটিয়ে রাজশাহী নগরীকে আলোকিত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করতে সড়কে স্থাপন করা হয় মুকুটবাতি। এর সঙ্গে আছে নগরীর ১৮টি পয়েন্টে উঁচু হাইমাস্ট লাইট। সড়কবাতিগুলো আনা হয় তুর্কি, চীন ও ইতালি থেকে। তবে সড়ক আর সড়ক দ্বীপের লাইটের সঙ্গে হাইমাস্ট লাইটে আলোর আধিক্যে হয়েছে বিদ্যুৎ অপচয়। এ কারণে সড়কবাতি আর নানা স্থাপনায় বিদ্যুৎ ব্যবহারে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বকেয়া বিল হয়েছে অন্তত ৪২ কোটি টাকা। এ ছাড়া ১০৩ কোটি ৭ লাখ টাকার নান্দনিক বাতির অনেকই নষ্ট হয়েছে নির্দিষ্ট সময়ের আগে। বকেয়া এ বিলের কারণ হিসেবে সাবেক মেয়রের উদাসীনতাকে দুষছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা-বন্ধগেট, তালাইমারি-কোর্ট, তালাইমারি-কাঁটাখালী পর্যন্ত প্রায় ২৩ কিলোমিটার সড়কে স্থাপন করা হয় আলোক বাতি। যা প্রতি প্রায় ১৫ মিটার দূরত্বে বসানো হয়। এর মধ্যে রাজশাহীর কল্পনা মোড় থেকে তালাইমারি সড়কের দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার। এই সড়কের ডিভাইডারে ২০২২ সালে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) লাগায় ১৩০টি সড়ক বাতির পোল। প্রতিটি পোলে বাতি আছে ১৩টি করে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যবহারে বেড়েছে বিদ্যুৎ খরচ। অপচয়ের কারণে করপোরেশনের কাঁধে চেপেছে প্রায় ৪২ কোটি টাকার বকেয়া বিদ্যুৎ বিল। যা আদায়ে বারবার নোটিঘও দিয়েছে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই (নেসকো) কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।
তবে সিটি কঠপোরেশনের প্রশাসক বলছেন, শুধুই সড়কবাতি নয়, এই বকেয়া নগরীর চারটি জোনের পানির পাম্প, বিভিন্ন স্থাপনা, আরবান হেলথ কেয়ারে ব্যবহৃত বিদ্যুতের। এখন বিদ্যুতের অপচয় কমানো ও ধীরে ধীরে বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগরীর প্রায় অর্ধেক সড়কবাতি বন্ধ রাখা হচ্ছে। রাসিকের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, একসঙ্গে এত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য করপোরেশনের নেই। বকেয়া বিদ্যুৎ বিল প্রতি মাসে কিছু করে দেওয়া হচ্ছে।’
