গজারিয়ায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৫
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ওয়েস্টেজ ব্যবসার দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছে। সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের ভিটিকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন-ভবেরচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শফিক শিকদার (৪৫), তার ছেলে ফাহিম শিকদার (২৬), তিন ভাতিজা দস্তগীর প্রধান (৪৮), অন্তর (২৬) ও আল আমিন সিকদার (৪৫)।
জানা যায়, সোমবার বিকাল সাড়ে চারটায় উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের ভিটিকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়ায় স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপ। গজারিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহমান শফিক ও ভবেরচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক শফিক শিকদারের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়। আহতরা সবাই অধ্যাপক শফিক শিকদারের সমর্থক বলে জানা গেছে।
হামলায় আহত ভবেরচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক শফিক শিকদার বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে আমি ভবেরচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। দলের প্রতি নিবেদিত প্রাণ থাকার কারণে আমাকে অনেকবার হামলা-মামলার শিকার হতে হয়েছে। সম্প্রতি আমি ভিটিকান্দি এলাকার ওয়েস্টেজ মালামাল বিক্রির কার্যাদেশ পাই। কোম্পানির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আজ আমাকে ফোন করে সেখানে যেতে বলায় আমি বিকাল চারটার দিকে সেখানে গিয়েছিলাম। আমার ছেলে এবং তিন ভাতিজা আমার সাথে ছিল। আমি সেখানে যাওয়ার পর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহমান শফিকের নেতৃত্বে শাওন, মিজানুর রহমানসহ অন্তত ৭০/৮০ জন আমাদের উপর হামলা চালায়।
এ সময় তারা আমাদের বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। বর্তমানে আমরা পাঁচজন গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছি।
গজারিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহমান শফিক বলেন, এক সময় এই কাজটি আমি করতাম। সম্প্রতি উপজেলা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। তবে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক শফিক শিকদার জোরপূর্বক কাজ করার চেষ্টা করছিলেন। আজ সকালেও তার ৫/৬ জন লোক এলাকায় মহড়া দিয়ে গেছে। বিকাল সাড়ে চারটার দিকে ১০/১২টি মোটরসাইকেল নিয়ে শফিক শিকদারসহ ২০/২২ জন এলাকায় মহড়া দেওয়ার সময় স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া দিলে পড়ে গিয়ে কয়েকজন আহত হয়। এখানে মারামারির কোনো ঘটনা ঘটেনি।
গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সাময়িকভাবে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলেও এখন পরিস্থিতি শান্ত। এ বিষয়ে দুই পক্ষই থানাতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
