গুলি যেভাবে লক্ষ্যভ্রষ্ট হলো
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর কাফরুলে যুবদল কর্মী ইউসুফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ডিবি পুলিশ মূল পরিকল্পনাকারীর সহযোগীসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা জানিয়েছে, পেশাদার ভাড়াটে খুনিদের মূল টার্গেট ছিলেন অন্য একজন। কিন্তু তল্লাশির মুখে পড়ে আচমকা গুলি চালালে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় প্রাণ যায় যুবদল কর্মী ইউসুফের। ডিবি মিরপুর বিভাগ ও কাফরুল থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর মিরপুর এবং মাগুরা, শরীয়তপুর ও যশোরের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন নাহিদ হাসান, শাফিন আহমেদ, জিয়ারুল মোল্লা, আলী হোসেন, জিহাদ মোল্লা, মাসুম বিল্লাহ ও আবির হাওলাদার।
গতকাল রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। এ সময় জানানো হয়, শুক্রবার রাতে কাফরুল থানা এলাকার ওপেক্স গার্মেন্টসের পাশে লিংক রোডে অস্ত্রধারীদের ছোড়া গুলিতে যুবদল কর্মী ইউসুফ, সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মনির হোসেন আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ইউসুফকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্য দুজন চিকিৎসাধীন। ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন অস্ত্রসহ আবির হাওলাদার নামে এক সন্ত্রাসীকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। তার কাছ থেকে চার রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল জব্দ করা হয়। পরদিন নিহত ইউসুফের বড় ভাই কাফরুল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ডিবি বলছে, ঘটনার পেছনে ছিলেন ‘সিএনজি হাফিজ’ নামে পরিচিত হাফিজুর রহমান হাফিজ। তার প্রতিপক্ষ হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যেই তিনি যশোর ও মাগুরা থেকে পেশাদার ভাড়াটে খুনিদের ঢাকায় নিয়ে আসেন। ঘটনার আগের দিন তারা অস্ত্র জোগাড় করে মিরপুরের একটি হোটেলে অবস্থান নেন এবং অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা নেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন রাতে হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় অস্ত্রধারীরা। রাত ১১টায় বাবু তার পরিচিতদের নিয়ে অবস্থানের সময় সন্দেহভাজন কয়েকজনকে দেখে পরিচয় জানতে চান এবং দেহ তল্লাশি করতে যান। এতে ঘাবড়ে গিয়ে অস্ত্রধারীদের একজন এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ইউসুফ বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হাফিজুর রহমানসহ বাকি জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
