ডিবি কার্যালয় থেকে ভিডিও বার্তা ছয় সমন্বয়কের
নিজস্ব প্রতিবেদক
গণ অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয় যা পরে ‘ডিবি হারুনের ভাতের হোটেল’ নামে ব্যাপক আলোচিত হয় সেখান থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ক ভিডিও বার্তায় আন্দোলনের কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। তবে পরদিন আত্মগোপনে থাকা সমন্বয়ক আবদুল কাদের এক লিখিত বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেন, সমন্বয়কদের জিম্মি করে নির্যাতনের মুখে ওই বিবৃতি দিতে বাধ্য করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২৯ জুলাই সারা দেশে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ গণমাধ্যমে ওই বিজ্ঞপ্তি পাঠান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি ও নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের হামলায় নিহত শত শত মানুষের আত্মত্যাগকে অস্বীকার করে ডিবি কার্যালয়ে বন্দুকের নলের মুখে সমন্বয়কদের দিয়ে জোরপূর্বক ‘স্ক্রিপ্টেড’ বিবৃতি আদায় করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, দাবি আদায়ে আন্দোলনকারীরা অবিচল ছিল, আছে এবং থাকবে। কয়েক দিনের গণহত্যা ও গণগ্রেপ্তারের পর সরকার নতুন নাটকের অবতারণা করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়। বলা হয়, স্ক্রিপ্টেড বিবৃতি দিয়ে ছাত্রসমাজের দাবিগুলোর প্রতি সরকার চরম ধৃষ্টতা প্রদর্শন করেছে। ভিডিও বার্তা প্রকাশের আগে তৎকালীন ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদের ফেসবুক পেজে সমন্বয়কদের সঙ্গে নাশতার কয়েকটি ছবি প্রকাশ করা হয়। পরে গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে এবং প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে তাদের ডিবিপ্রধানের সঙ্গে নৈশভোজেও দেখা যায়। ভিডিও বার্তায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে অনেক হতাহত হয়েছেন এবং রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় অগ্নিসংযোগসহ নানা সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে বলেন, সরকারের মাধ্যমে কোটার যৌক্তিক সংস্কার হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত খুলে দেওয়ার স্বার্থে ওই মুহূর্ত থেকে আন্দোলনের কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এ সময় সমন্বয়ক সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, নুসরাত তাবাসসুম এবং সহ-সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
এদিন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাবি শাখার অন্যতম সমন্বয়ক আরিফ সোহেলকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যায় ডিবি। একই দিনে টানা ১০ দিন পর মোবাইল ইন্টারনেট চালু করা হলেও ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও টিকটক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়। ফলে ওই সময়ে এসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে ভিপিএনের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।
