গ্রিনল্যান্ড নিয়ে রাশিয়ার মাথাব্যথা নেই, যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্ক নিজেরাই সমাধান করুক: পুতিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব ঘিরে যখন পশ্চিমা বিশ্বে তোলপাড় চলছে, তখন এই পুরো বিষয়টি থেকে রাশিয়াকে দূরে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। রুশ প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ওয়াশিংটন এবং তার ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে যে টানাপোড়েন চলছে, তাতে মস্কোর কোনো স্বার্থ বা ভূমিকা নেই। এ নিয়ে রাশিয়ার কোনো মাথাব্যথাও নেই।

রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের এক টেলিভিশন বৈঠকে পুতিন বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ভাগ্যে কী আছে, তা আমাদের দেখার বিষয় নয়। এটি নিশ্চিতভাবেই আমাদের উদ্বেগের কারণ নয়। আমার মনে হয়, তারা (যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক) এটি নিজেদের মধ্যেই সমাধান করে নিতে পারবে।

বিশ্লেষকদের মতে, পুতিন আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টিকে এড়িয়ে গেলেও, এই বিতর্কের ফলে ন্যাটো জোটের মধ্যে যে ফাটল তৈরি হয়েছে, তাতে মস্কো পরোক্ষভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

সরাসরি হস্তক্ষেপ না করলেও ডেনমার্কের কড়া সমালোচনা করতে ছাড়েননি পুতিন। তিনি বলেন, ঐতিহাসিকভাবে ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডকে একটি কলোনি বা উপনিবেশ হিসেবে বিবেচনা করেছে এবং তাদের সঙ্গে বেশ রূঢ় আচরণ করেছে। তবে সেটি ভিন্ন প্রসঙ্গ।

পুতিন পুরোনো ইতিহাসের উদাহরণ টেনে মনে করিয়ে দেন যে, ১৯১৭ সালে ডেনমার্ক তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন ভার্জিন আইল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করেছিল। এমনকি ১৮৬৭ সালে রাশিয়া নিজেই ৭.২ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে আলাস্কাকে আমেরিকার কাছে বিক্রি করেছিল। পুতিনের ভাষায়, অতীতে যদি এমন লেনদেন সম্ভব হয়, তবে বর্তমানে তা নিয়ে এত বিতর্কের কী আছে—এমন একটি সূক্ষ্ম ইঙ্গিত তার বক্তব্যে ফুটে উঠেছে।

এদিকে দাভোসে এক ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপীয় দেশগুলো তাকে সমর্থন না দিলেও তিনি তাদের ওপর আপাতত কোনো পাল্টা ট্যারিফ বা শুল্ক আরোপ করবেন না। এর ফলে বাণিজ্য যুদ্ধের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আর্কটিক অঞ্চলের এই দ্বীপটি ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অংশ। খনিজসম্পদ এবং ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ট্রাম্প এটি কেনার আগ্রহ দেখান, যা ডেনমার্ক সরকার সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। এই ঘটনায় ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়, যা পর্যবেক্ষণ করছে পুরো বিশ্ব।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights