ঘন কুয়াশার সঙ্গে শীতের তীব্রতা, উপকূলের আকাশে দেখা মেলেনি সূর্যের

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গত দুই দিন ধরে ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো কুয়াশা ঝরছে। রবিবার সকাল থেকেই উপকূলের আকাশে সূর্যের দেখা মেলেনি। ঘন কুয়াশা ও শিশিরে ভিজে অধিকাংশ সড়ক পিচ্ছিল হয়ে পড়েছে। ফলে দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে যানবাহন।

এদিকে কুয়াশার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। সকাল ৯টায় খেপুপাড়া আবহাওয়া অফিস সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

স্থানীয়রা জানান, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। লঞ্চসহ নৌপরিবহন শ্রমিকরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। ভোর ও গভীর রাতে কনকনে ঠান্ডা থেকে বাঁচতে সড়কের পাশে, বাজারের মোড়ে কিংবা খোলা জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে জ্বর, সর্দি, ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি।

কলাপাড়া পৌর শহরের বাসিন্দা জলিল বলেন, আজ সারাদিনেও সূর্যের দেখা মেলেনি। দূর থেকে দেখলে মনে হয় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ছে। তার ওপর প্রচণ্ড শীত।

শ্রমিক স্বপন মিয়া বলেন, প্রচণ্ড শীতের মধ্যেও পেটের দায়ে কাজে এসেছি। কিন্তু ঘন কুয়াশার কারণে লঞ্চ এখনো আসেনি। ঘাটে বসে অলস সময় কাটাতে হচ্ছে।

ভ্যানচালক জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, ভোর থেকে এত কুয়াশা যে সামান্য দূরের জিনিসও দেখা যায় না। একটু জোরে চালালেই শরীরের ভেতর শীত ঢুকে পড়ে। রোদ না উঠলে ভ্যান চালানো প্রায় অসম্ভব।

রিকশাচালক বিকাশ মণ্ডল বলেন, আজ হিম বাতাস আর ঘন কুয়াশা অনেক বেশি। যাত্রীও অনেক কম।

পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী জানান, আগামী কয়েক দিন শীত ও কুয়াশার তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। তবে জানুয়ারির শুরুতে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights