চট্টগ্রামে প্রথম মেয়র শিক্ষাবৃত্তি, অংশ নেবে ৩৫৩৭ শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে প্রথমবারের মত আয়োজন করা হয়েছে মেয়র শিক্ষাবৃত্তি পরীক্ষা। শনিবার সকালে চসিক পরিচালিত তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষায় দুটি শ্রেণীর মোট ৩ হাজার ৫৩৭ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে।

আগামী ১৯ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার কথা। শিক্ষাবৃত্তি পরীক্ষায় কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করছে সফট জোন আইটি সলিউশন।

চসিকের শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রথমবারের পরীক্ষায় চসিকের ৪৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নগরের মোট ১২৪টি স্কুলের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করছেন। এর মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ১ হাজার ৭৮০ জন এবং সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ১ হাজার ৭৫৭ জন। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে চসিক পরিচালিত অপর্ণাচরণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, কাপাসগোলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং পাঠনটুলি খান সাহেব বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। পরীক্ষায় ১০০ জন বিজয়ীকে পুরস্কার দেওয়া হবে। এর মধ্যে প্রথম ক্যাটাগরিতে ষষ্ঠ-৭ম শ্রেণীর ২০ জনকে দেয়া হবে ‘ট্যালেন্ডপুল’ বৃত্তির ১০ হাজার টাকা করে। দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে দুই ক্লাসের ৪০ জনকে দেয়া হবে ৫ হাজার টাকা করে এবং তৃতীয় ক্যাটাগরিতে ৪০ জনকে দেয়া হবে ৩ হাজার টাকা করে।

মেয়র শিক্ষাবৃত্তির প্রধান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যক্ষ আবু তালেব বেলাল বলেন, চসিক মেয়রের উদ্যোগে প্রথমবারের মত মেয়র শিক্ষাবৃত্তির আয়োজন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মানুষকে শিক্ষার প্রতি অনুপ্রাণিত এবং মেধাকে মূল্যায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আর্থিক সংকটে থাকা মেধাবীদের একটু সাপোর্টও হবে।

চসিকের শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমা বিনতে আমিন বলেন, প্রথমবার মেয়র শিক্ষাবৃত্তির আয়োজন করা হয়েছে। তাই দুটি ক্লাস নিয়েই এই উদ্যোগ। আগামীতে ক্লাসের সংখ্যা আরও দুটি যোগ হতে পারে। তবে প্রথমবারেই আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আশানুরূপ সাড়া মিলেছে।

জানা যায়, দেশের কর্পোরেশনগুলোর মধ্যে একমাত্র চসিকই শিক্ষা খাতে ব্যাপক অবদান রাখছে। বর্তমানে চসিকের উদ্যোগে ৮৮টি স্কুল-কলেজ পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে একটি বিশ্ববিদ্যালয়, ৪০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৮টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ৭টি উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ, ৯টি ডিগ্রি কলেজ ও ৭টি কিন্ডার গার্টেন।

এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেড় হাজার শিক্ষক-কর্মচারী এবং প্রায় ৮০ হাজার শিক্ষার্থী আছেন। এ ছাড়াও চসিক শিক্ষা বিভাগের অধীন আছে ডা. জাকির হোসেন হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, একটি কম্পিউটার ইনস্টিটিউট, একটি থিয়েটার ইনস্টিটিউট। চসিক শিক্ষা খাতে প্রতি বছর ভর্তূকি দেয়া প্রায় ৬৮ কোটি টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights