চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে হবে ২০ শয্যার ডায়ালাইসিস ইউনিট

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগে ডায়ালাইসিস মেশিন আছে মোট ২২টি। বৃহত্তর চট্টগ্রামের কিডনি রোগীদের এই মেশিনগুলোর ওপরই ভরসা করতে হয়। ফলে মেশিন সংকটে কিডনি রোগের মত স্পর্শকাতর রোগীদের দীর্ঘ দিন ধরেই অপেক্ষা করতে হয়। পড়তে হয় ভোগান্তিতে। তবে এবার ২৫০ শয্যার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ২০ শয্যার একটি পৃথক কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিট চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

শনিবার দুপুরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার একান্ত সচিব (যুগ্ম সচিব) ড. মোহাম্মদ মনজুরুল ইসলাম জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনও করেছেন। সরকারি অর্থায়নে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

তবে চমেক হাসপাতালের নিচে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে একটি ডায়ালাইসিস সেন্টার থাকলেও সেখানে সেবা নিতে কাটখড় পোহাতে হয় বলে অভিযোগ আছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগের মানুষদের চমেক হাসপাতালের কিডনি বিভাগের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু এখানে রোগীর চাপ অনেক বেশি। নানা কারণে রোগীদের ডায়ালাইসিসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। তাই জেনারেল হাসপাতালে একটি পৃথক ইউনিট চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আশা করি, শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আকরাম হোসেন বলেন, এখানে ডায়ালাইসিস ইউনিট চালু করতে আগে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তারই প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার একান্ত সচিব (যুগ্ম সচিব) ইউনিট স্থাপনের সম্ভাব্য স্থানটি পরিদর্শন করতে আসেন। তিনি স্থানটি পরিদর্শন করে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। রবিবার আমরা আরেকটি বিস্তারিত প্রস্তাবনা পাঠাব। এরপর পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে অনেক আন্তরিক। তাই আশা করছি, দ্রুত ডায়ালাইসিস ইউটিন বাস্তবায়ন হবে।

জানা যায়, বর্তমানে চমেক হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগে ২২টি কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন আছে। এর মধ্যে কিছু মেশিন কখনো সচল, কখনো অচল। সচল পাওয়া যায় ১৫টি মেশিন। কিন্তু মেশিন স্বল্পতার কারণে অনেক রোগীকে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকতে হয়। আর্থিক সামর্থ্যবানরা বেসরকারি ডায়ালাইসিস সেন্টারে যেতে পারলেও গরীব-অসহায়রা অপেক্ষায় থাকেন সরকারি হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করার জন্য। জেনারেল হাসপাতালে ডায়ালাইসিস ইউনিট চালু হলে রোগীদের এই দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমবে। এখানে কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন, ডায়ালাইজার, ব্লাড লাইন এবং ডায়ালাইসিস এক্সেসরিজসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করা হবে।

হাসপাতাল পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ ফজলে রাব্বি, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম, জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আকরাম হোসেন, কনসালটেন্ট (মেডিসিন) ডা. এইচএম হামিদুল্লাহ মেহেদী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights