চাঁদপুরে জাহাজে ৭ হত্যাকে পরিকল্পিত বলছেন স্বজনরা

চাঁদপুর প্রতিনিধি
চাঁদপুরের হাইমচর নীলকমল ইউনিয়নের মেঘনা নদীর মাঝের চরে সার বহনকারী জাহাজ এমভি আল-বাকেরাহ এর মাস্টার ও সুকানিসহ ৭ জনকে হত্যার ঘটনাটিকে কেউ ডাকাতি বললেও স্বজনদের দাবি এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ঘটনার আলামত দেখে তারা এমন মন্তব্য করছেন। পুলিশও এই ঘটনাকে সন্দেহজনক রেখে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা মরদেহ শনাক্তের জন্য আসা স্বজনদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। এর আগে সোমবার বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে জাহাজে নিহতদের মরদেহ ও আহতদের উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশ। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত হাইমচর থানায় মামলা হয়নি।

আজ সকাল ১০টার পর মরদেহগুলো ময়না তদন্তের জন্য মর্গে নেয়া হয়। সেখানে নিহতদের স্বজনদের মধ্যে অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। গতকালের সুরতহাল এবং ময়না তদন্তে কাজ করছে নৌ পুলিশ।

হত্যার শিকার জাহাজের লস্কর শেখ সবুজ (৩৫)-এর ভাই সাদিকুর রহমান বলেন, জাহাজটির মাস্টার গোলাম কিবরিয়া আমার মামা। তার মাধ্যমেই আমার ছোটো ভাই সবুজ জাহাজটিতে চাকুরি নেন। নিহত হওয়ার এক দিন পূর্বে আমার সাথে ভাইয়ের কথা হয়েছে। যে মর্মান্তিক ঘটনায় আমার ভাই হত্যার শিকার হয়েছে, আমি চাই এমন ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে। এই জাহাজের প্রত্যেকটি হত্যার আমি সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি। এমনকি ঘটনাটি যাতে কেউ ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা না করে আমি এটিও দাবি করছি।

হত্যার শিকার জাহাজের মাস্টার গোলাম কিবরিয়ার ভাই আউয়াল হোসেন বলেন, এই মাসেই আমার ভাইয়ের চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। তিনি ১ জানুয়ারি থেকে অবসরে যেতেন। উনার দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। বড় মেয়েটি জানুয়ারি মাসে বিয়ে হওয়ার কথা। কিন্তু এই ঘটনার পরে সব পরিকল্পনা শেষ হয়ে গেছে।

ইঞ্জিন চালক সালাউদ্দিনের মামাতো ভাই জাহাঙ্গীর বলেন, ঘটনাটি আমরা ডাকাতি শুনলেও খুনের ঘটনার দৃশ্য দেখে মনে হয়েছে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। কারণ প্রত্যেকটি নিহত ব্যক্তিদের মাথায় ধারলো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। যারা হত্যার শিকার হয়েছে তাদের সকলের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, মানিব্যাগ ও মোবাইল জাহাজে পাওয়া গেছে। এমনকি জাহাজে থাকা ৫ জনকে উদ্ধারের সময় প্রত্যেককে শয়ন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত ৭জন হলেন- জাহাজের মাস্টার গোলাম কিবরিয়া ফরিদপুর জেলা সদরের জোয়াইর গ্রামের মৃত আনিছ বিশ্বাসের ছেলে। লস্কর শেখ সবুজ (৩৫) তারই আপন ভাগিনা। সবুজ একই গ্রামের মৃত আতাউর রহমানের ছেলে। সুকানি আমিনুল মুন্সী নড়াইল জেলার লোহাগড়া তানোর ইটনা ইউনিয়নের পাংখার চর গ্রামের মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে। লস্কর মো: মাজেদুল (১৬) মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর থানার আনিছুর রহমানের ছেলে। একই উপজেলা পলাশবাড়ি গ্রামের লস্কর সজিবুল ইসলাম (২৬) দাউদ হোসেনের ছেলে। আর ইঞ্জিন চালক মো: সালাউদ্দিন (৪০) নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার লাহোরিয়া এগারো নলি গ্রামের মৃত আবেদ মোল্লার ছেলে এবং বাবুর্চি কাজী রানা (২৪) মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলা ভাগ্যকুল গ্রামের কাজী দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।

হাইমচর থানার ওসি মহিউদ্দিন সুমন বলেন, ঘটনার পর ৭ জনের মরদেহের ময়না তদন্তে ও পোস্ট মর্টেমের কাজ চলমান। ময়না তদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর এবং একই সাথে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলমান রয়েছে।

চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, নিহত ৭ পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে দেয়া হবে। এই ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights