চিকিৎসকের টেবিল ও রোগীর বিছানায় তিন কুকুর, নেট দুনিয়ায় ভাইরাল!
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ। যেখানে চিকিৎসকের টেবিলে একটি ও রোগীর বিছানায় দুইটি কুকুর। মোট তিন কুকুরের এমন অবস্থান সম্বলিত একটি ছবি এখন ভাইরাল হয়েছে নেট দুনিয়ায়। রবিবার বিকাল থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধতা সৃষ্টি হয় জনমনেও।
যদিও ছবিটি শুক্রবার গভীর রাতে নিজ মুঠোফোনে ক্যামেরাবন্দী করেছেন বলে জানান উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের বিলরাউল গ্রামের সাদ্দাম হোসেন। পরে রবিবার তিনি তার ফেসবুক ওয়ালে ছবিটি পোস্ট করেন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এরপর থেকেই ভাইরাল হয় ছবিটি।
তিনি বলেন, গত শুক্রবার দুপুরে তার ভাতিজা ইমনকে হাসপাতালে এনে ভর্তি করি। পরে বাড়িতে চলে যাই। রাত দশটার দিকে ফের হাসপাতালে আসি। এক পর্যায়ে রাত একটার দিকে ভাতিজার অবস্থার অবনতি হলে দু’তলা থেকে নিচে নেমে জরুরি বিভাগে যাই চিকিৎসকের খোঁজে। তখন চিকিৎসক পাইনি, কিন্তু চিকিৎসকের টেবিলে একটি ও রোগীর বিছানায় দুইটি কুকুরকে বিশ্রাম করতে দেখি। এমন দৃশ্য আমাকে নাড়া দেয়, ফলে মুঠোফোন দিয়ে ক্যামেরাবন্দী করি।
এমন ছবির প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মজিবুর রহমান মিন্টু নামের একজন ওই ছবিটি তার ওয়ালে আপলোড করে লিখেছেন, ‘একটি ছবি! একটি বিস্ময়! বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগের অনিয়মের চালচিত্রটি দেখুন! ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগের ডাক্তারের টেবিল যখন কুকুরের বিছানা…! হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ফাঁকা, দায়িত্বরত চিকিৎসকের টেবিলে একটি ও রোগীর টেবিলে দুইটি কুকুর শুয়ে আছে, এমন দৃশ্য আজ রবিবার সকাল থেকে দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই ছবিটি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের। গত শুক্রবার গভীর রাতে ছবিটি মোবাইলে ধারণ করেন একজন রোগীর অভিভাবক, এ নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে সর্বত্রই, ঘটনাটির সঠিক তদন্তের দাবি করেছেন সুশীল সমাজ।’
জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লোপা চৌধুরী বলেন, ‘আমার মনে হয় এই ছবি অনেক আগের। তাছাড়া জরুরি বিভাগের দায়িত্ব আবাসিক মেডিকেল অফিসারের (আরএমও’র)। তাকেই জিজ্ঞাস করেন। এরপরও বিষয়টি নিয়ে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হবে।’
আরএমও জাহিদুল হক জানান, ‘ছবিগুলো দেখেছি। তবে এটি বর্তমানে তোলা হয়েছে কি না সেটি খতিয়ে দেখার জন্য চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’
ইউএনও মোসা. হাফিজা জেসমিন বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ছবিগুলো কখন তোলা হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।’
