ছাতিম ফুলের সুবাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

শরতের স্নিগ্ধ সন্ধ্যা। হঠাৎ বাতাসে ভেসে আসছে মিষ্টি সুবাস। রাস্তার পাশে গাছের ডালে ফুটে থাকা ছোট ছোট সাদা ফুল থেকে ছড়িয়ে পড়ছে সেই ঘ্রাণ। ফুলের নাম ছাতিম। ছাতিমের মিষ্টি সুবাসে এখন মাতোয়ারা রাজশাহী নগরী। শরতের প্রকৃতিতে ছাতিম ফুলের আগমন যেন এক নীরব উৎসব। সাদা ফুল আর তার তীব্র মিষ্টি ঘ্রাণ নগরজীবনে এনে দিয়েছে ভিন্ন এক আবহ। ব্যস্ত সড়কে সবুজে ঘেরা পথ-বাতাসে ছাতিমের সুবাস ছড়িয়ে পড়ায় সন্ধ্যার রাজশাহী হয়ে উঠছে আরও স্নিগ্ধ, আরও মায়াময়। বিশেষ করে বিকাল থেকে রাতের দিকে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে ফুলের ঘ্রাণ। কোথাও গাছের নিচে দাঁড়ালেই অনুভব করা যাচ্ছে ছাতিমের মাদকতাময় সুবাস। পথচারীদের অনেকেই কিছুক্ষণের জন্য থমকে দাঁড়াচ্ছেন। কেউ ফুলের ঘ্রাণ নিচ্ছেন, কেউবা মোবাইল ফোনে ধারণ করছেন ছাতিমের সৌন্দর্য। নগরীর মৌসুমী নোমান বলেন, শরৎ এলেই ছাতিম ফুলের গন্ধে মন ভালো হয়ে যায়। দিনের ব্যস্ততা শেষে যখন রাস্তায় বের হই, বাতাসে এই সুবাস পেলে অন্যরকম প্রশান্তি অনুভব করি। মনে হয়, শহরের কোলাহলের মধ্যেও প্রকৃতি তার নিজস্ব সৌন্দর্য নিয়ে বেঁচে আছে। জিয়া হাসান বলেন, নগর ভবন থেকে লক্ষ্মীপুর হয়ে সড়কে ফুটে থাকা ছাতিম ফুলের সৌন্দর্য খুব বেশি চোখে পড়ে। ফুলগুলো ছোট ও সাদামাটা, কিন্তু এর সুবাস অসাধারণ। সন্ধ্যার বাতাসে যখন ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে, তখন রাজশাহীকে অন্যরকম সুন্দর মনে হয়। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন ডলার জানান, ২০১৯ সাল থেকে নগরীর বিভিন্ন চওড়া ফুটপাতে প্রায় ৫৬০টি ছাতিম গাছ লাগানো হয়েছে। এর মধ্যে নগরীর রেলগেট থেকে সিঅ্যান্ডবি মোড় পর্যন্ত সড়কের ফুটপাত, সিপাইপাড়া জেলখানার পেছনের সড়কের ফুটপাত, উপশহর, সপুরাসহ বিভিন্ন সড়কের ফুটপাতে এসব ছাতিম গাছ লাগানো হয়েছে। এর মধ্যে শুধু রেলগেট থেকে সিঅ্যান্ডবি মোড় পর্যন্ত তিন কিলোমিটার সড়কের দুই পাশের ফুটপাতে লাগানো হয়েছে ৩৫০টি ছাতিম গাছ। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ‘জিরো সয়েল প্রজেক্টের’ মাধ্যমে রাজশাহী সিটির সড়ক বিভাজক ও ফুটপাতে লাগানো শুরু হয় এসব গাছ। এই প্রজেক্টের পার্টনারশিপে ছিল ‘একলি সাউথ এশিয়া’ নামের একটি আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠন এবং নরওয়ের একটি প্রতিষ্ঠান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights