ছাত্রদের তোপের মুখে কার্যালয় ছাড়লেন বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্যের নতুন পরিচালক
বিশেষ প্রতিনিধি
বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) পদে সদ্য পদায়ন পাওয়া ডা. এস এম মনিরুজ্জামান বিক্ষুব্ধ ছাত্র ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তোপের মুখে কার্যালয় থেকে বের হয়ে গেছেন।
বিগত সরকারের আমলে শান্তি সমাবেশের নেতৃত্বদান এবং স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে অভিযুক্ত এই কর্মকর্তার পদায়নের প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে বুধবার তিনি নিজ কার্যালয় ছাড়লেন।
এদিন বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয় ঘেরাও করেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষুব্ধ ছাত্র ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ডা. মনিরুজ্জামানকে তার কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে রুমে তালা ঝুলিয়ে দেন।
জানা গেছে, গত ৫ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জারি এক আদেশে ডা. এস এম মনিরুজ্জামানকে বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) পদে পদায়ন করা হয়। বিগত সরকারের আমলে তিনি শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং সে সময় সরকারপন্থী ‘শান্তি সমাবেশ’-এর অন্যতম নেতৃত্বদানকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শান্তি সমাবেশে নেতৃত্ব দেওয়ার অপরাধে তাকে শাস্তিমূলকভাবে সাতক্ষীরায় বদলি করা হয়েছিল। এমন একজন কর্মকর্তাকে পুনরায় বরিশালের গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরিয়ে আনায় স্থানীয় ছাত্রসমাজ ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই পদায়নের প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার থেকেই বরিশালে ক্ষোভ ও আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে আজ সকাল থেকেই সাধারণ ছাত্ররা এবং বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে ডা. মনিরুজ্জামানকে অবরুদ্ধ করেন এবং তীব্র প্রতিবাদের মুখে তাকে কার্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য করেন। তিনি কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরপরই সাধারণ ছাত্ররা তার দাপ্তরিক কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন।
আন্দোলনরত ছাত্ররা জানান, গণঅভ্যুত্থানের পর কোনো ফ্যাসিবাদের দোসর বা বিতর্কিত কর্মকর্তাকে পুনর্বাসন করতে দেওয়া হবে না। ডা. মনিরুজ্জামানের পদায়ন অবিলম্বে বাতিল করে কোনো সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তাকে এই পদে নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের এই প্রতিরোধ কর্মসূচি জারি থাকবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দেন।
