ছাদে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা
আলী রিয়াজ
বিদ্যুতের সংকট মোকাবিলায় ছাদে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর সরকারের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনায় কয়েক শ মিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা দিতে আগ্রহ দেখিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। প্রস্তাবিত নীতিভিত্তিক ঋণের আওতায় প্রাথমিকভাবে পাইপলাইন থেকে ১০ কোটি ডলার ছাড়ের পাশাপাশি আরও অর্থ যোগ করে ওই অর্থ দেওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। এডিবির দক্ষিণ এশিয়া এনার্জি টিমের পরিচালক সুজাতা গুপ্তার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে এ বিষয়ে আলোচনা করেছে। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে অর্থ বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা), বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কর্মকর্তারা অংশ নেন। সরকারের পক্ষ থেকে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে এডিবির কাছে নীতিভিত্তিক ঋণ সহায়তা চাওয়া হয়েছিল। এর লক্ষ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ কমানো। বিদ্যুৎ বিভাগ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নে এডিবির কাছ থেকে ২০০ কোটি ডলার সংগ্রহের উদ্যোগ নিতে অর্থ বিভাগকে অনুরোধ করেছিল। পরে অর্থ বিভাগ এ প্রস্তাব দ্রæত এডিবির কাছে উপস্থাপনের জন্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) অনুরোধ করে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বৈঠকগুলোতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে সরকারের অগ্রাধিকার এবং চলমান নীতি ও নিয়ন্ত্রক সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পথে বিদ্যমান বাধা, বিশেষ করে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের সুযোগ ও প্রতিবন্ধকতাগুলো পর্যালোচনা করেছে এডিবি। নীতিভিত্তিক ঋণের আওতায় কোন কোন ক্ষেত্রে সংস্কার প্রয়োজন এবং সেগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। জ্বালানি খাতের আর্থিক স্থায়িত্ব, নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়ন এবং জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের সমন্বয়-এসব ক্ষেত্রকে সম্ভাব্য সংস্কারের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে এডিবি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রাথমিকভাবে এডিবি তার বিদ্যমান পাইপলাইন থেকে ১০ কোটি ডলার দেওয়ার কথা জানিয়েছে। এর সঙ্গে আরও অর্থ যোগ করে কয়েক শ মিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তা দেওয়া হতে পারে। তবে মোট ঋণের পরিমাণ এবং প্রক্রিয়াকরণের সম্ভাব্য সময়সীমা ইআরডির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর চ‚ড়ান্ত হবে। অন্যদিকে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রুফটপ সোলার স্থাপনে উৎসাহ দিতে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক আদেশ ও প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগে মার্চেন্ট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে নীতিগত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের জমিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে। আগামী গ্রীষ্মের আগে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে অতিরিক্ত ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। সম্ভাব্য বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় এ সক্ষমতা তৈরিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এ কর্মসূচির অর্থায়নে দেশীয় তহবিলও গঠন করা হয়েছে। বেসরকারি খাতের নবায়নযোগ্য জ্বালানি উদ্যোক্তারা ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের জন্য বিশেষ অর্থায়ন তহবিল গঠনের প্রস্তাবের পর উন্নয়ন বাজেটের অর্থ পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেয় সরকার। এর অংশ হিসেবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই) খাতের জন্য বরাদ্দ ১০০ কোটি টাকা এবং পরিচালন ঋণ থেকে ৫০ কোটি টাকা নিয়ে মোট ১৫০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপ কমানো এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, আগামী গ্রীষ্মের আগে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য বাস্তবায়নে বড় অঙ্কের অর্থায়ন প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বৈদেশিক অর্থায়ন সরকারের জন্য কার্যকর বিকল্প হতে পারে। কারণ বিভিন্ন বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদনে তুলনামূলক কম সুদে অর্থায়ন করে।
