জনগণের বিশ্বাস অর্জন করুন

বিশেষ প্রতিনিধি

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, বিজয়ের আত্মবিশ্বাস থাকা ভালো। তবে অতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হবেন না। জনগণ পছন্দ করে না এমন কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখুন। জনগণের বিশ্বাস ভালোবাসা অর্জন করুন। গতকাল বিকালে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে কেন্দ্রীয় বিএনপির আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, একটি প্রবাদ আছে অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে তোমার এক চোখ অন্ধ। দেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ করে দিতে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা বসে আছে। তাদের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে বাংলাদেশের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। এক দিন পর এ সরকারের মেয়াদ তিন মাস পূর্ণ হবে। তাদের এ তিন মাসের সফলতা নিয়ে আলোচনার জন্য এই সময় যথেষ্ট সময় নয়। সভাপতির বক্তৃতায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ৭ নভেম্বর সাধারণ কোনো দিবস নয়। ৭ নভেম্বর দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ইতিহাস। বাংলাদেশের উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন ও দর্শনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে ’৯০ সালে বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে গিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছি। কিন্তু সামনের ভবিষ্যতের দিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। ড. ইউনূসকে আমরা শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস করি। তিনি অতিদ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এ নভেম্বর এমন একটি দিবস যা জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ১৭ বছর আমরা তা পালন করতে পারিনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, দেশের সব সংকটকালের নেত্বত্বে জিয়া পরিবার। ৭ নভেম্বর দিয়েছেন জিয়াউর রহমান, ’৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়া ও এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা বিদায় নিয়েছেন, কিন্তু দেশে এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি। হাসিনা বলেছিলেন গণতন্ত্রের ওপরে উন্নয়ন। আমরা বলব নতুন কোনো বায়না নয়, গণতন্ত্র ও দেশের মালিকানা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতে হলে দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ৭ নভেম্বর দেশের পট পরিবর্তন হয়। সব পট পরিবর্তন মানুষ মনে রাখে না। ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সবকিছু পরিবর্তন করেছেন। জনগণ জিয়াউর রহমানকে মহানায়ক বানিয়েছেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংশোধন করতে পারে নির্বাচিত সরকার। কোনো ব্যক্তি কলমের খোঁচায় সংবিধান পরিবর্তন করতে পারে না। নির্বাচিত সরকার এসে সংবিধান সংশোধন করবে। তাই দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights