জন্মদিনে মা কিনে দিয়েছিলেন বন্দুক, সেই অস্ত্র দিয়েই নৃশংস কাণ্ড ঘটালেন তরুণ
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর তার মায়ের কাছ থেকে জন্মদিনের উপহার হিসেবে পাওয়া বন্দুক দিয়ে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বেন্ড শহরের সিলভার রেল এলিমেন্টারি স্কুলে সংঘটিত এই বন্দুক হামলায় তিন শিশু এবং এক শিক্ষক নিহত হয়েছেন। অতীতে ওই স্কুলেরই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী ছিল হামলাকারী।
সিবিএস নিউজ সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারী ওই কিশোরের নাম গ্রিফিন জে জন দ্বিতীয়। তার মা শানটেই নিকরসন গত আগস্ট মাসে আইনগতভাবে মেভরিক ৮৮ পাম্প-অ্যাকশন ১২-গেজের একটি শটগান ক্রয় করেছিলেন। এরপর তিনি বিনোদনমূলক ব্যবহারের জন্য ওই অস্ত্রটি তার ১৬ বছর বয়সী ছেলেকে উপহার হিসেবে দেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন কিশোর হামলাকারী প্রথমে একটি চলমান পিকআপ ট্রাক লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ওই ট্রাকের চালকই প্রথম ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। এরপর বন্দুকধারী ব্যক্তিটি স্কুলের লক করা কাচের দরজা গুলি করে ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। দরজা দিয়ে ভেতরে ঢোকার পর সে বাঁ দিকের প্রথম শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে এবং সেখানে থাকা চারজনকে হত্যা ও দুজনকে আহত করে।
এই হামলায় নিহতদের মধ্যে ৫ বছর বয়সী রোয়াম সামার নামের এক শিশু রয়েছে। নিহত অপর দুই শিশুর বয়স ৮ এবং ১১ বছর। এ ছাড়া হামলায় নিহত শিক্ষকের নাম মেগান ল্যাম্বার্ট, যার বয়স ছিল ২৫ বছর। পুলিশ জানিয়েছে, এই হামলায় ৭ বছর বয়সী এক ছাত্রী এবং ৫৪ বছর বয়সী এক শিক্ষক আহত হয়েছেন। হামলার সময় ওই শ্রেণিকক্ষে চার প্রাপ্তবয়স্ক ও পাঁচ শিশুসহ মোট নয়জন উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে স্থানীয় এক সচেতন নাগরিক ও দুই সন্তানের জনক কাইলুব জিয়ামানকো ঘটনাস্থলে সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে হামলাকারীকে প্রতিহত করেন। তিনি কিশোরকে পিকআপ ট্রাকের দিকে গুলি চালাতে দেখে তার পেছনে পেছনে স্কুলের ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় এক শিক্ষক বন্দুকধারীর কাছ থেকে অস্ত্রটি ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য ধস্তাধস্তি করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে দুই ছাত্রের বাবা কাইলুব জিয়ামানকো সেখানে প্রবেশ করে গুলি চালিয়ে হামলাকারীকে হত্যা করেন।
পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যেই গত সপ্তাহের এই ভয়াবহ হামলায় নিহত এক শিশুর শোকাহত পিতামাতা স্কুলের নিরাপত্তা প্রোটোকল এবং কিশোর বন্দুকধারী কীভাবে অস্ত্রটি হাতে পেল, তা খতিয়ে দেখার জন্য আইনজীবী নিয়োগ করেছেন।
