জবি শিক্ষার্থীদের বিজয় ভাবনা

‘বাঙালি’ পৃথিবীর এমন এক জাতির নাম যারা শত শত বছর পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ ছিলো। ছিলো জালিমের অত্যাচারে নিপিড়ীত, নির্যাতিত। বাঙালির এই নির্যাতন আর নিপিড়ন ছেয়ে আছে ইতিহাসজুড়ে। কিন্তু বাঙালি মনে স্বাধীনতা জোয়ার সবসময় বয়েছে। বয়েছে বলেই বাঙালি জাতীয়তাবাদে অনুপ্রাণিত হয়ে দীর্ঘ ৯ টি মাস বিশাল ত্যাগ-তিতিক্ষার পর হানাদারের ছোবল থেকে স্বাধীনতাকে ছিনিয়ে নিয়েছে। আমরা পেয়েছি বিজয়। এ বিজয় গৌরবের।

আজ সেই মহান বিজয় দিবস। বিজয়ের ৫২ বছর পেরিয়ে ৫৩ বছরে বাঙালি জাতির আত্মগৌরবের দিন। আজ বাঙালির বিজয়ের দিন। আনন্দ আর উল্লাসে মেতে থাকার দিন। বিজয়ের এই চেতনাকে ধারণ করে দেশ ও জাতিকে উন্নতির শিখরে এগিয়ে নিয়ে যাবার শপথ করার দিন। তাই এ দিন নিয়ে সবার রাশি রাশি ভাবনা৷ তারই একাংশ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিজয় ভাবনা তুলে ধরেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী, আলোচিত বাংলাদেশের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি ও ফিচার লেখক জুনায়েদ মাসুদ।

শহীদের রক্তে অর্জিত বিজয় সম্মান অক্ষুণ্ণ থাকুক।

বাঙালির স্বাধীনতার ইতিহাসে ১৬ই ডিসেম্বর অবিস্মরণীয় দিন যেদিনটিতে বাঙালি বিজয় অর্জন করেছিল লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে। এ দিনটি বাঙালিদের জন্য আনন্দের হলেও শহীদের জননীর কাছে বেদনার।এবিজয়ের মাধ্যমে বাঙালি যুদ্ধ-বিগ্রহ থেকে মুক্তি পেয়ে পৃথিবীর বুঁকে একটি স্বাধীন দেশের ইতিহাস রচনার দ্বার উন্মেচন করেছিল। প্রতিবছর আমরা বাঙালিরা শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে শহীদের অমর কৃতিকে স্মরণ করার মাধ্যমে দিনটিকে উদযাপন করি। তবে এখানেই আমাদের কর্তব্য শেষ নয়,শহীদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীন ভূখণ্ডে বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তা বাস্তবে রুপ দিতে প্রত্যেক বাঙালিকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে হবে।স্বাধীনতার ৫২ বছরে আমাদের দেশে অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্ভব হলেও দুর্নীতির কারণে সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব হয়নি। তাই সকল নাগরিকের উচিত দেশপ্রেমে সাঁড়া দিয়ে জাতির কল্যাণে সততার পরিচয় দেওয়া। তা নাহলে শহীদের রক্তের প্রতিটি ফোঁটা ব্যর্থ হবে।

ঝুমা আক্তার

শিক্ষার্থী, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, জবি।

বিজয়ের ৫২ বছরে বাংলাদেশ

আমাদের জাতীয় জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত লাল সবুজের পতাকা। একদিকে এই বিজয় যেমন আনন্দের ঠিক তেমনি বেদনার। এই বিজয় অর্জনের জন্য প্রাণ দিয়েছে ৩০ লক্ষ শহিদ।বিজয় অর্জনের ৫২ বছরে আমাদের দেশ অনেক এগিয়েছে। একের পর এক দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে চমকে দেওয়ার মতো সাফল্য যুক্ত হচ্ছে। সামাজিক অনেক সূচকে এশিয়ায় আমাদের অবস্থান বেশ ভালো। সীমাবদ্ধতাও আছে অনেক। এখনো দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করছেন। অর্জিত হয়নি শতভাগ সাক্ষরতা। বিজয়ের মূলমন্ত্রে আমাদের এই সোনার বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উচুঁ করে দাঁড়াবে।

সোহানা চৌধুরী

শিক্ষার্থী, দর্শন বিভাগ, জবি

বিজয়ের এই আনন্দে উল্লাসিত বাঙালি প্রাণ।

আজ থেকে ঠিক ৫৩ বছর পূর্বে পাকিস্তানি বর্বর বাহিনীর হাত থেকে বাঙালি ছিনিয়ে এনেছিল বিজয়। এই দিনেই বাংলার ৭ কোটি মানুষের সাথে বাংলার পথ-ঘাট, নদী-নালা,‌ গাছপালা, তৃণলতা, পাহাড়, পর্বতে, সমুদ্র সমস্ত কিছুই মেতে উঠেছিল বিজয়ের উল্লাসে। বাংলা মায়ের বুকে বিঁধে থাকা কন্টক হয়েছিল উৎপাটিত। আমরা পেয়েছিলাম পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন সার্বভৌম একটি রাষ্ট্র।

বিজয়ের এই ৫৩ বছরে বাঙালি জয় করেছে অনেক কিছুই। বাংলা মায়ের ঝুলিতে জমা হয়েছে হাজারো অর্জন। তবে আমাদের হতাশাও কম নয়। যেই চেতনা নিয়ে বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা পাকিস্তানি বর্বরদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয়টি মাস লড়াই করে দেশের বিজয় সুনিশ্চিত নিশ্চিত করেছিল, সেই চেতনা আজ কতটুকু লালিত হচ্ছে‌ অথবা সেই চেতনার বহিঃপ্রকাশই বা কতটুকু তা নিয়ে প্রশ্ন তুলবার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। এ দেশের একজন তরুণ হিসেবে আমি কল্পনা করি, সবুজ শ্যামলে ঘেরা সমৃদ্ধ এক বাংলাদেশের। যেখানে থাকবে না কোন অভুক্ত মানুষ, রইবে না কেউ আশ্রয়হীন। মুছে যাবে সকল ভেদাভেদ। যেখানে সকলেই অহরাত্র সুললিত কন্ঠে গাইবে নজরুলের সেই বিখ্যাত পঙক্তি- “গাহি সাম্যের গান-

যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান”।

রবিউল আওয়াল পারভেজ

শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, জবি।

এ বিজয় আগামী দিনে পথ চলার

এখন ডিসেম্বর চলছে বিজয়ের মাস।

সবাইকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানাই।

বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রসত্তা হাঁটি হাঁটি পা পা করে তার স্বাধীনতার ৫৩ বছরে এসে দাঁড়িয়েছে। এই মাসের ১৬ তারিখে গোলামী জীবনের অবসানের মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। দু’চারটা কথায় বিজয় আসেনি, করতে হয়েছে অনেক সংগ্রাম, সইতে হয়েছে অনেক অত্যাচার, কাটাতে হয়েছে অনেক নিরাপত্তাহীন রাত-দিন। এই দিনে আমরা সবাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করি আমাদের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবীদের। আমার তরফ থেকে বিজয় দিবসের প্রত্যাশা থাকবে যে বাংলার মানুষের চিন্তাহীন বসবাস। আমরা আমাদের দেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করব। আমরা চাই, আমাদের দেশে কোন দুর্নীতি, অশান্তি, অজ্ঞতা বা অনাহারি থাকবে না। আমাদের দেশে শুধু শান্তি, সুখ ও সমৃদ্ধি থাকবে। আসুন আমরা সকলে মিলে দেশকে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলি। বিজয় দিবসটি কাটাতে চাচ্ছি শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়।

“তোমার মাঝেই স্বপ্নের শুরু, তোমার মাঝেই শেষ। তবুও ভাললাগা-ভালোবাসাময় তুমি, আমার বাংলাদেশ ”

ইকবাল হোসেন

শিক্ষার্থী, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, জবি।

বিজয়ের বার্তা ছড়িয়ে পরুক সবার মাঝে

প্রথমেই বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতেছি সেই সব শহীদদের,যাদের কারনে ১৬ ডিসেম্বর আজ বাংলার বুকে আজ উজ্জ্বীবীত এক দিবস “মহান বিজয় দিবস”। এ বিজয় যেন সেন বিজয় নয় , এই বিজয় ইতিহাসে বাঙালিদের অধিকার আদায়ের বিজয়। তাইতো প্রতি বছর এ দিনকে বাঙালিদের মাঝে আনন্দ উল্লাসের ছড়াছড়ি, যেন আবার তারা ১৬ ডিসেম্বর এ ফিরে যায়,দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে পেয়ে যায় ১৬ ডিসেম্বর ।। এ বিজয় সার্থকতার, যেখানে নেই কোন ছল ছুতুরি। বিজয় দিবসকে প্রত্যেক বাঙালির বুকে ধারণ করে এ দিনটি পালন করার আহ্বান জানাই ,যেন এ দিবস আমাদের সেই শান্তি টা দেয় যা আমাদের জাতির প্রতি কর্তব্যপরায়ন হতে শেখায়।

মোঃ নিরব চৌধুরী

শিক্ষার্থী, সমাজকর্ম বিভাগ, জবি।

বিজয় তাৎপর্যপূর্ণ অর্থবাহী ছোট একটি শব্দ

“বিজয় শত মানুষের রক্তের দান,

বিজয় আমাদের গৌরব ও অনুপ্রেরণার অধ্যায়।”

আমার কাছে বিজয়ের অর্থ যেমন শ্রদ্ধার সাথে প্রতিটি শহীদ বাঙালির আত্মত্যাগ স্মরণ করা ঠিক তেমনি শহীদদের সেই চেতনা আজকের প্রতিটি বাঙালির নিজ হৃদয়ে ধারণ করা। বিজয় দিবসের উদযাপন কেবল সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গনে সীমাবদ্ধ না রেখে এমন উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন যেন আজকের তরুণদের মনে দেশাত্মবোধ জাগ্রত হয়। বিজয় দিবস নিয়ে আমার প্রত্যাশা গতানুগতিকভাবে শিশু-তরুণদের সামনে ইতিহাস তুলে না ধরে তাদের কাছে সেই নয় মাস এমনভাবে উপস্হাপন করা যেন তারা উপলব্ধি করতে পারে কতটা নিষ্টুর অত্যাচার, নির্মমতা,ষড়যন্ত্রকে বুদ্ধি ও বল দিয়ে প্রতিহত করে এবং রক্তদানের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা এসেছে এবং এ দেশের নাগরিক হিসেবে বিজয়ের মূল্য দিয়ে স্বাধীনতা বহাল রাখা তাদেরই গুরু দায়িত্ব। হয়ত সে নয় মাস আমরা ছিলাম না কিন্তু সে সময়ের ঘটনাগুলো অনুভব করতে পারলেই সম্ভব বিজয়ের মর্মতা বজায় রাখা।

মারযিয়া তাসমীন

শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights