জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়াই ভালো আজ

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার গভীর রাত থেকেই রাজধানীজুড়ে শুরু হয়েছে মুষলধারে বৃষ্টি। আজ রবিবার (১২ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে বৃষ্টির বেগ আরও বাড়ে, যা সকাল গড়িয়েও থামেনি। টানা এই অতিভারি বর্ষণে তলিয়ে গেছে ঢাকার মিরপুর, শেওড়াপাড়া, কালশী, মতিঝিল, নয়াপল্টন, ধানমন্ডি, গ্রিনরোড, ইসিবি চত্বর, পুরান ঢাকার বিভিন্ন সড়কসহ বিভিন্ন এলাকার প্রধান সড়ক ও অলিগলি।

কোথাও হাঁটুপানি, আবার কোথাও কোমরসমান পানিতে স্থবির হয়ে পড়েছে নগরজীবন। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া আজ ঘরের বাইরে না বের হওয়াই ভালো বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী নগরবাসী।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শনিবার রাত ১২টা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত রাজধানীতে ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মাসে এই সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। স্বল্প সময়ে এই রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টির কারণেই মূলত পুরো শহরজুড়ে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই রাজধানীর সড়কগুলো পানিতে নিমজ্জিত। গণপরিবহনের তীব্র সংকটের পাশাপাশি রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলো হাঁকাচ্ছে আকাশচুম্বী ভাড়া। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দীপা সাহা প্রীতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাস্তার বিভিন্ন স্থানে কোমরসমান পানি জমে গেছে। নিরুপায় হয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে ডাবল ভাড়া দিয়ে বাইকে করে অফিসে এসেছি। আসার পথে একদম ভিজে একাকার অবস্থা। এসি রুমে বসে এই ভেজা জামা শুকাতে শুকাতে না জানি আবার জ্বর চলে আসে!”
ভোগান্তির একই চিত্র ফুটে ওঠে আরেক চাকরিজীবী মিথিলার কথায়। তিনি বলেন, “রাস্তায় কাদা আর ড্রেনের ময়লা পানি মাড়িয়ে কোনোমতে অফিসে এসেছি। আজ শহরের যে অবস্থা, তাতে যাদের সুযোগ বা সম্ভাবনা আছে, তাদের আজ ঘর থেকে না বের হওয়াই ভালো।”

অনেকেই আবার এই চরম ভোগান্তি এড়াতে ছুটির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা তাজনুর জানান, “সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখি চারপাশ পানিতে থৈ থৈ করছে। রাস্তায় বের হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। তাই আজ আর ঝুঁকি নিইনি, অফিস থেকে ছুটি নিয়ে নিয়েছি।”

অন্যদিকে, প্রযুক্তির কল্যাণে ঘরে বসে অফিসের কাজ সেরে নিচ্ছেন অনেকে। ফারুক নামের এক করপোরেট চাকুরিজীবী বলেন, “রাস্তার অবস্থা বেগতিক দেখে সকালেই অফিসে যোগাযোগ করেছি। ম্যানেজমেন্ট পরিস্থিতি বিবেচনা করে অনুমতি দেওয়ায় আজ হোম অফিস করছি।”

জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়েছে রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও। বৃষ্টির কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল একেবারেই নগণ্য। একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা বৃষ্টি হোসেন বাধ্য হয়ে চরম দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে স্কুলে গিয়ে দেখেন, ক্লাসরুমগুলো প্রায় শিক্ষার্থীশূন্য। তিনি বলেন, “এত বৃষ্টির মধ্যে রাস্তায় যে পরিমাণ পানি জমেছে, তাতে বাচ্চাদের স্কুলে আসা প্রচণ্ড ঝুঁকিপূর্ণ। তাই আমরাও শিক্ষার্থীদের আজ স্কুলে না আসার জন্য এক প্রকার উৎসাহ দিয়েছি। এই পরিস্থিতিতে ঘরে থাকাই নিরাপদ।”

এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক দিন ধরেই বৃষ্টি চলছে, যার ফলে চট্টগ্রামসহ কিছু এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও আরও ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে ঢাকার জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি সহজে কমছে না বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights