জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়ে বারবার বিতর্ক

আলাউদ্দীন মাজিদ

২০১৯ সালের আগস্টে কালচারাল ইয়ার্ডের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক বেলায়াত হোসেন মামুন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারকে আমি সব সময় বলি এটি জাতীয় চলচ্চিত্র তিরস্কার। কারণ প্রতি বছরই এ পুরস্কার যে বিচারে দেওয়া হয় সেটি গ্রহণযোগ্য নয়।’

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়ে বারবার বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। মানে বিতর্কের আরেক নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।’ প্রায় প্রতি বছরই ঘোষিত এ চলচ্চিত্র পুরস্কারের তালিকা নিয়ে নানান প্রশ্ন তুলছে খোদ চলচ্চিত্রের মানুষেরাই। তাঁদের অভিযোগ ‘এই পুরস্কার নিয়ে চলে নয়ছয়, এতে স্বচ্ছতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে।’ এমন অভিযোগের পরও এ পুরস্কার নিয়ে বিতর্কের অবসান হচ্ছে না। গত বৃহস্পতিবার ঘোষিত সর্বশেষ ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০২৩’ নিয়েও উঠেছে জোর বিতর্ক। কারণ এবার এ পুরস্কারে একদিকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে দুজন মৃত ব্যক্তিকে। যৌথভাবে এ সম্মাননা পাচ্ছেন চলচ্চিত্রকার প্রয়াত তারেক মাসুদ এবং চিত্রগ্রাহক ও নির্মাতা প্রয়াত আবদুল লতিফ বাচ্চু। যদিও এ সম্মান মৃত ব্যক্তিদের দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। সরকারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের শর্তের ১(খ)তে উল্লেখ রয়েছে এ সম্মাননা প্রদানে জীবিত ব্যক্তিদেরই বিবেচনা করতে হবে। অথচ কেন শর্ত ভেঙে দুজন প্রয়াত ব্যক্তিকে এ সম্মান দেওয়া হচ্ছে তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন চলচ্চিত্রের মানুষেরাই। অন্যদিকে শর্তে আরও রয়েছে, যে চলচ্চিত্র সিনেমা হলে মুক্তি পাবে সেটিই কেবল পুরস্কারের জন্য অন্তর্ভুক্ত হবে। কিন্তু ২০২৩ সালে সিনেমা হলে নয়, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছিল ‘রক্তজবা।’ এ ছবিকে জাতীয় পুরস্কারের চিত্রনাট্য ক্যাটাগরিতে দেওয়া হয়েছে সেরা চিত্রনাট্যকারের পুরস্কার এর পরিচালক নিয়ামুল মুক্তাকে। অথচ মুক্তা নিজেই বলছেন তিনি এ চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লেখেননি এবং এ পুস্কার মুক্তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, এর প্রকৃত চিত্রনাট্যকার তাসনীমুল হাসান। অন্যের কাজের স্বীকৃতি নিজের নামে আসায় তিনি নৈতিকভাবে এটি গ্রহণ করতে পারছেন না। চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট অনেকেই বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য সিনেমা হলে মুক্তি না পাওয়া ছবি কীভাবে পুরস্কার পায়। এ প্রসঙ্গে নিয়ামুল মুক্তা বলেন, ‘আমার পরিচালিত ছবি কোথায়, কোন সিনেমা হলে চলেছে, তা আমিই জানি না এখন পর্যন্ত। সিনেমা হলে মুক্তি না পেলে কোনো ছবি জাতীয় পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হতে পারে কি না, সেই প্রশ্ন আমারও।’ এই অসংগতি প্রসঙ্গে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জুরি বোর্ড সদস্য বরকত হোসেন পলাশের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুরস্কার চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়। আমরা জুরি বোর্ডের সদস্যরা শুধু নাম প্রস্তাব করতে পারি। তবে ২০২৩ সালে জুরি বোর্ডের সদস্যদের দেওয়া প্রস্তাবে আজীবন সম্মাননায় ওনাদের দুজনের নাম ছিল না। তিরস্কারজুরি বোর্ড সদস্য বরকত হোসেন পলাশ আরও বলেন, আমরা বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর করেছি। এদিকে এ বিষয়ে জানতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের চলচ্চিত্র শাখার উপসচিব শারমিন আখতারের সঙ্গে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। গত ২৯ জানুয়ারি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘোষণা করে। এ পুরস্কারের জন্য ২৮টি ক্ষেত্রে সর্বমোট ৩০ জন শিল্পী ও কলাকুশলীকে মনোনীত করেছে সরকার। এদিকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের নানান অনিয়ম নিয়ে ২০১৯ সালের আগস্টে কালচারাল ইয়ার্ডের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক বেলায়াত হোসেন মামুন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারকে আমি সব সময় বলি এটি জাতীয় চলচ্চিত্র তিরস্কার। কারণ প্রতি বছরই এ পুরস্কার যে বিচারে দেওয়া হয় সেটি গ্রহণযোগ্য নয়। বণ্টন প্রক্রিয়ায় এ পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রতি বছরই এ পুরস্কার বিতর্কের জন্ম দেয়।’ তিনি বলেন, চলচ্চিত্রশিল্পে অবদানের জন্য ২০১৭ সালের জন্য ২৭টি বিভাগে ও ২০১৮ সালে ২৮টি বিভাগে শিল্পী ও কলাকুশলীকে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ প্রদানের ঘোষণা করে তথ্য মন্ত্রণালয়। চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টরা এ পুরস্কারের নানান দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর কথায়, ‘ঢাকা অ্যাটাক’ চলচ্চিত্রের সম্পাদনার জন্য মো. কালামকে পুরস্কার দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি ভারতীয় নাগরিক। বিধান অনুযায়ী বিদেশি কোনো নাগরিককে চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেওয়া যায় না। এ ছাড়া ‘কৌতুক অভিনেতা’ বিভাগে মোশাররফ করিমকে ‘কমলা রকেট’ চলচ্চিত্রের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এ চরিত্রটি কোনো কৌতুক অভিনেতার চরিত্র নয় বলে জানান মোশাররফ করিম এবং তিনি এ পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন। এ ছবির লেখক ও চিত্রনাট্যকার শাহদুজ্জামানও জানিয়েছেন তিনি কৌতুক চরিত্রের জন্য এ চরিত্রের সৃষ্টি করেননি। এর আগে ২০১৬ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ‘বৃহন্নলা’ ছবিটিকে সেরা ছবি হিসেবে পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। ছবিটির প্রযোজক ও পরিচালক মুরাদ পারভেজ। পরে জানা যায় ছবিটি সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ‘গাছটা বলেছিল’ গল্প অবলম্বনে নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছবি গল্পকারের কোনো স্বত্ব বা অনুমোদন না নিয়েই নির্মাণ করা হয়। এ নিয়ে লেখকের বড় ছেলে অভিজিৎ সিরাজ লিখিত অভিযোগ জানান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার কমিটির কাছে। এরপর বিতর্কের মুখে ছবিটিকে পুরস্কার থেকে বাদ দেওয়া হয়। আবু শাহেদ ইমন পরিচালিত সিনেমা ‘জালালের গল্প’ দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়। ছবিটি অবলীলায় ২০১৫ সালের সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেতে পারত বলে মনে করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু সবাইকে অবাক করে এ ছবির মেকআপম্যানকে পুরস্কার দেওয়া হয়। ব্যাপারটা হাস্যকর ঠেকেছে এ ছবির পরিচালক থেকে কলাকুশলীসহ সবার কাছে। কারণ যে ছবিতে মেকআপম্যান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায় সেই ছবিতে তেমন কোনো মেকআপই ব্যবহার করা হয়নি। ছবিতে শুধু তৌকীর আহমেদের গোঁফটা লাগিয়েছে। আর ঘাম মুছে দিয়েছে। মেকআপম্যান সেটে মাত্র চার দিন গেছে। এরপর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে পরে তৌকীর আহমেদের গোঁফ ফেলে দিতে হয়েছে ছবির এক পর্যায়ে। শুধু একটি গোঁফ লাগিয়েই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দেওয়ায় হাস্যরসের সঙ্গে অবাক ও ব্যথিত হন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টরা। শুধু এ বিষয়গুলোই নয়, দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিল্পমনা ছবির জন্য পুরস্কার না দিয়ে কিছুটা সমানুপাতিক হারে পুরস্কার দেওয়া হয়। এ ধরনের বিতর্ক প্রতি বছর লেগে থাকায় প্রশ্নও উঠেছে, এখানে জুরি হচ্ছেন কারা? ২০১৭ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ফজলুর রহমান বাবুকে ‘গহীন বালুচর’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য ‘শ্রেষ্ঠ কৌতুক অভিনেতা’ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এ নিয়েও তখন মুখ খোলেন বাবু। তিনি বলেন, ‘গহীন বালুচর’ ছবিতে আমার ব্যতিক্রম চরিত্র ছিল, তবে আর যা-ই হোক, সেটি কৌতুক চরিত্র নয়। খলচরিত্র বলা যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি কোনোভাবেই কৌতুক চরিত্রকে ছোট করে দেখছি না।’ নির্মাতা হাসান রেজাউল ফেসবুকে লিখেন- ‘কৌতুক অভিনেতা বাছাই করাও একটা কৌতুক।’ এ নিয়ে প্রবাসী চলচ্চিত্রনির্মাতা সাইফুল ওয়াদুদ হেলাল তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন- ‘বাংলাদেশে সিনেমার জন্য কেউ অনুদান/পুরস্কার ইত্যাদি পেলে খোলা মনে একটু শুভেচ্ছা অভিনন্দন জানাতেও পারি না।’ ২০২৩ সালে ঘোষিত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের তালিকা প্রকাশের পরও ওঠে নানা অভিযোগ। আগেরবারের তিরস্কারমতো সেবারও নৃত্য শাখায় দেওয়া হয়নি কোনো পুরস্কার। আর এ নিয়েই নৃত্য পরিচালকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জুরি বোর্ড নিয়েও নানান প্রশ্ন তোলে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র নৃত্য পরিচালক সমিতি। পরপর দুবার জাতীয় পুরস্কার থেকে নৃত্য বিভাগকে বাদ দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী নৃত্য পরিচালক এবং সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক খোকন। তিনি তখন বলেন, এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো নৃত্য বিভাগকে জাতীয় পুরস্কার থেকে বঞ্চিত করা হলো। রীতিমতো এটা বিমাতাসুলভ আচরণ। অথচ বাণিজ্যিক সিনেমার প্রাণ হলো গান আর নাচ। আপনি গান বাছাই করতে পারলেন, কিন্তু নৃত্য কোরিওগ্রাফিকে অস্বীকার করলেন কোন বিবেচনায়? ২০২০ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়েও ওঠে বিতর্কের ঝড়। ওই বছর চয়নিকা চৌধুরী পরিচালিত চিত্রনায়ক সিয়াম ও চিত্রনায়িকা পরীমণি অভিনীত ‘বিশ্বসুন্দরী’ সিনেমার গান ‘তুই কি আমার হবি রে’ ছিল জনপ্রিয় গান। এ গানের গীতিকার হিসেবেই জাতীয় পুরস্কার পান গীতিকার কবির বকুল। গানটির প্রথম দুই লাইন ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা ‘হঠাৎ দেখা’র রাতের সব তারাই আছে, দিনের আলোর গভীরে’। কবির বকুল ওই কবিতার দুই লাইন থেকে ‘আলো’ শব্দটি শুধু বাদ দিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথের কবিতা থেকে দুই লাইন চুরি করা গান কীভাবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায় সেটা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। এ গানের জন্য সুরকার এবং শিল্পীরাও পান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। রবীন্দ্রনাথের কবিতা থেকে দুই লাইন নিয়ে গান তৈরি করার ব্যাপারে বাংলাদেশের কপিরাইট আইনে কী আছে? কপিরাইট রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী তখন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, যদি কেউ রবীন্দ্রনাথের দুটি লাইন গানে ব্যবহার করে থাকেন তাহলে অবশ্যই তার স্বীকৃতি দিতে হবে। রবীন্দ্রনাথের নাম উল্লেখ করতে হবে। কেউ যদি এক বা দুই লাইন কোনো উদ্ধৃতি ব্যবহার করে থাকেন তাহলেও রবীন্দ্রনাথের নাম তার উল্লেখ করা উচিত। এ স্বীকৃতি যদি না দেওয়া হয় তাহলে কেউ অভিযোগ জানালে তা নিশ্চয়ই কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করবে। ২০১৫ সালে রিয়াজুল রিজু পরিচালিত ‘বাপজানের বায়োস্কোপ’ সেরা চলচ্চিত্রসহ ৯টি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছিল। তখনো অভিযোগ উঠেছিল সিনেমাটি গোপনে দেনদরবার করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে। সত্যিই কি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেতে ‘লবিং’ করতে হয়েছে? এমন প্রশ্নে তখন রিয়াজুল রিজু কিছুটা ঘুরিয়ে উত্তর দেন। তাঁর কথায়- ‘আমি লবিং করেছি কি করিনি এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে আমাদের যোগ্যতার প্রশ্নে কথা বলতে হবে। ভালো সিনেমা বানানো যেমন যোগ্যতার ব্যাপার, লবিং করাটাও তাই।’ দুই মেয়াদে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জুরি বোর্ডের অন্যতম সদস্য ছিলেন চিত্রনায়ক রিয়াজ। তিনি তখন জানিয়েছিলেন, ‘জুরি বোর্ডের সুপারিশ শতভাগ কার্যকর হয় না। জুরি বোর্ড ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড দেয় না। সদস্যরা সুপারিশ করেন। এ সুপারিশ সব সময় চূড়ান্ত বলে বিবেচিত না-ও হতে পারে। সুতরাং কেউ যদি জুরি বোর্ডের সুপারিশ করা নামগুলো পরিবর্তন করে ফেলে তাহলে করার কিছু থাকে না। শুধু এটুকু বলতে পারি, আমরা স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করি। এর বাইরে কিছু বলার এখতিয়ার নেই। কারণ কিছু নীতিমালার আওতায় আমাদের কাজ করতে হয়। সেই নীতিমালা ভঙ্গ করতে পারি না।’ তবে রিয়াজের এ কথার সঙ্গে একমত হননি বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সাবেক মহাপরিচালক নিজামূল কবীর। তিনিও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জুরি বোর্ডের সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যানেরও দায়িত্ব পালন করেছেন। নিজামূল কবীর বলেছিলেন, ‘জুরি বোর্ডের সদস্যরা যে নামগুলো সুপারিশ করেন সেগুলো তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার পর বদলে যায় না। তবে আজীবন সম্মাননা দেওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় কয়েকটি নাম সাজেস্ট করে। সেটাও সীমিত। যোগ্যতার ভিত্তিতেই জুরি বোর্ডের সদস্যরা সেরা ছবি, শিল্পী ও কলাকুশলীদের নাম সুপারিশ করে থাকেন। এটা নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই।’ তিনি আরও বলেছিলেন, ‘যারা বলছেন মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার পর সুপারিশ করা নাম বদলে যায়, তাদের বলব সেই নামগুলো প্রকাশ্যে আনতে। আমি দায়িত্ব পালনকালে এ ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হইনি।’ ২০১৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ‘দেবদাস’ ছবির জন্য সেরা অভিনেত্রী হিসেবে পুরস্কার দেওয়া হয় মৌসুমীকে। অথচ তিনি ছিলেন এ ছবির পার্শ্ব অভিনেত্রী। তিনি অভিনয় করেন এ ছবির চন্দ্রমুখী চরিত্রে। অথচ ছবির মুখ্য অভিনেত্রী পার্বতী চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অপু বিশ্বাস। অপু তখন প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘মৌসুমীকে পার্শ্বচরিত্রে পুরস্কার দিলে আমার আপত্তি থাকত না, কারণ ওই ছবির অভিনেত্রী তো আমি।’ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়ে বলতে গেলে প্রতি বছরই কোনো কোনো বিতর্ক ওঠা এখন যেন নিয়মেই পরিণত হয়ে গেছে। এক সিনিয়র অভিনেতা জুরি বোর্ডে থাকাকালীন পক্ষপাতিত্ব করতেন বলেও ক্ষোভ রয়েছে চলচ্চিত্রের মানুষের মধ্যে। বলা হয়, তিনি জুরি বোর্ডের সদস্য থাকাকালীন নিজে একাধিকবার এবং আরেকবার নিজের স্ত্রী ও কন্যাসহ তারা তিনজনই জাতীয় পুরস্কার নিয়ে নিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে বারবার জাতীয় পুরস্কার নিয়ে এই নয়ছয় ও বিতর্ক কখন বন্ধ হবে সেটিই এখন জানতে চান চলচ্চিত্রের মানুষসহ সবাই। প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সালে সরকার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রবর্তন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights