জাবিতে ছাত্রলীগের এক নেতাকে হল থেকে বিতাড়ন আরেক নেতার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) গভীর রাতে শাখা ছাত্রলীগের এক নেতাকে লাঞ্চিত করে আবাসিক হল থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে আরেক নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ইমরান আহমেদ শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ৪৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং অভিযুক্ত এনামুল হক এনাম শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী।

সোমবার (১২ই জুন) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আল বেরুনী হলে এ ঘটনা ঘটেছে।

ভুক্তভোগী ইমরানের অভিযোগ, তিনি আল বেরুনী হলের ২০৭ নম্বর কক্ষে থাকতেন। সোমবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে এনামুল হক এনামের নির্দেশে শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আসিফ মাহাদি আবির, খাইরুল ইনাম নাহিদ, নওশাদ আলম সুজন, স্কুল ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রকি, কর্মসংস্থান সম্পাদক সোহেল রানা, উপ-বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক রেজাউল করিম, সহ-সম্পাদক মানিকুজ্জান খান, সহ-সম্পাদক রাজিবুল হক পান্থ, ছাত্রলীগের কর্মী ফয়জুল কবির সজীব, তুষার ও কাব্য তাকে জোরপূর্বক টেনে হিঁচড়ে হল থেকে নামিয়ে দেয়। মূলত জাবি ছাত্রলীগের বিদ্রোহী গ্রুপের হয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যোগদান না করায় তাকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান ইমরান। এসময়, এনামের অনুসারীরা ইমরানের কক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র (টেবিল, ওয়্যারড্রোব, বইপত্র) বের করে কক্ষটি তালাবদ্ধ করে দেয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এনামুল হক বলেন, কিছুদিন ধরেই তার সাথে আমাদের মতপার্থক্য তৈরি হয়। ব্লকের সবাই একদিকে, সে আরেক দিকে। জুনিয়ররা মিলে তাকে বলেছে হল থেকে নেমে যাওয়ার জন্য। এতে আমার ওপর অভিযোগ ভিত্তিহীন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেল বলেন, ক্যাম্পাসে যারাই রাজনীতি করে, সবাই ছাত্রলীগের আদর্শের রাজনীতি করে। এখানে ব্যক্তিগত প্রভাব বা ব্যক্তিগত আদর্শ বলে কিছু নাই। ব্যক্তির রাজনীতি না করলে সে হলে থাকতে পারবে না এমনটা তো হতে পারে না। আমরা বিষয়টা দেখছি। কেউ সংগঠন বিরোধী কাজে যুক্ত থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটন বলেন, হল থেকে বের করে দেওয়ার রাজনীতি ছাত্রলীগ করে না। আমরা বিষয়টি শুনেছি, শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বসে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিবো।

আল-বেরুনী হলের প্রাধ্যক্ষ সিকদার মো. জুলকারনাইন বলেন, এ বিষয়ে আমাকে কেউ এখনো অভিযোগ করেনি। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights