জাবির মেডিক্যাল থেকে ১৯ হাজার ঔষধ উধাও, তদন্ত কমিটি গঠন
জাবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিক্যাল সেন্টারের সংগ্রহে থাকা প্রায় ১৯ হাজার ৫৬৭টি ঔষধ উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত ৩০ জুন থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ২১ দিনের ব্যবধানে এসব ঔষধের হিসাব নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজ এসব ঔষধের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৩ হাজার ১১০ টাকা।
এছাড়াও প্রধান মেডিক্যাল কর্মকর্তার নামে দায়িত্বে অবহেলা, মেডিক্যালের অ্যাম্বুলেন্স ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ করেছেন জাকসুর নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা।
এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারের প্রধান কর্মকর্তা ডা. শামসুর রহমানকে তার কার্যালয়ে তালাবদ্ধ করে রাখেন জাকসুর কয়েকজন নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন তারা।
এদিকে, এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মেডিক্যাল সেন্টারের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর) মো. নুর-এ-কামালকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবদুর রবকে সভাপতি করে গঠিত এ কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সালেকুল ইসলাম, দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুছ ছাত্তার এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন- ডেপুটি রেজিস্ট্রার আলাউদ্দিন মোল্লা। আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে এ কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে জাকসুর স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক হুসনে মুবারক বলেন, ঔষধের হিসাবের বিষয়ে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রধান মেডিক্যাল অফিসার ঔষধের হিসাবসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও কারচুপির বিষয়ে কোন সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এজন্য তার কার্যালয় অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও তদন্ত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবদুর রব বলেন, মেডিক্যাল সেন্টারের ঔষুধের হিসাবের অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর প্রধান মেডিক্যাল অফিসারের বিরুদ্ধেও তদন্ত করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
