জেন-জি বিক্ষোভে উত্তাল জার্মানি, সামনে কি ঘটছে?
অনলাইন ডেস্ক
জীবনযাত্রার অতিরিক্ত খরচ, শিক্ষা খাতে অপর্যাপ্ত বাজেট এবং সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক যোগদানের সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে জার্মানি।
শনিবার দেশটির বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট, কোলন ও মিউনিখসহ ৩৪টি প্রধান শহরে একযোগে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে তরুণ প্রজন্ম। ‘জেন-জি রেজেল্ট’ বা ‘জেন-জি সমাধান করবে’ নামের একটি যুব সংগঠনের আহ্বানে আয়োজিত এই এক দিনের ধর্মঘটে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি তরুণ-তরুণী অংশ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। হ্যালোইনের ছুটিকে কাজে লাগিয়ে তরুণদের এই উপস্থিতি ও ক্ষোভ সারা দেশে ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান করা হয়েছে।
জার্মানির বিভিন্ন শহরের রাজপথে তরুণদের স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিল করতে দেখা গেছে। কোলন শহরে আন্দোলনকারীদের একটি অংশকে ‘ইউক্রেন যুদ্ধ অর্থায়ন বন্ধ করো’ লেখা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে শোভাযাত্রা করতে দেখা যায়। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ও সহিংসতা এড়াতে পুরো দেশজুড়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ প্রশাসন। বিশেষ করে রাজধানী বার্লিনের বিলাসবহুল বিপণিবিতানগুলোর সামনে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য ভাঙচুর এড়াতে দোকানগুলোর জানালা ও দরজা কাঠ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
ইউরোপজুড়ে সম্প্রতি যে তীব্র সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, জার্মানির এই তরুণদের আন্দোলন তারই ধারাবাহিকতা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সেপ্টেম্বর মাসে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যয় হ্রাস ও শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুতই পুরো ইউরোপে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। এরই অংশ হিসেবে ফ্রান্সেও শনিবার ‘ইয়েলো ভেস্ট’ বা হলুদ ভেস্ত পরা আন্দোলনকারীরা নতুন করে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে, যেখানে শিক্ষক ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোও সংহতি প্রকাশ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করেছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। এছাড়া স্পেন ও ইতালির মতো অন্যান্য ইউরোপীয় দেশেও একই ধরনের অস্থিরতা ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় অ্যালার্ট জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
এদিকে ইউরোপজুড়ে চলতে থাকা এই গণবিক্ষোভ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এক বক্তব্যে তিনি বলেন, পশ্চিম ইউরোপের এই বর্তমান অস্থিরতা তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভুলের ফসল। সেই সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন সংকট ইউরোপীয় দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ কাঠামোকে ভঙ্গুর করে তুলছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ইউরোপের একাধিক দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে তৈরি হওয়া এই সংকট কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
সূত্র: আরটি
