জ্বলছে ভাওয়াল বনাঞ্চল
গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরের ভাওয়াল বনাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে দাউদাউ করে জ্বলছে আগুন। পুড়ছে শাল-গজারি গাছের নিচে জন্ম নেওয়া ছোট চারা। শুকনো পাতার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বনের বিভিন্ন ছোটবড় প্রাণী, পাখপাখালি জীবন বাঁচাতে প্রাণপণে ছুটছে।
বুধবার শ্রীপুরের বিন্দুবাড়ী, কর্ণপুর, গোসিংগা, বরমী, খোঁজেখানিসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। গত এক সপ্তাহে শ্রীপুরের সিমলাপাড়া, মাওনা, বারতোপা, শিরীষগুঁড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় বনে আগুন লেগেছে। ভাওয়াল বনাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ড এখন নিত্যদিনের ঘটনা। বনের ভিতরে মাঝেমধ্যেই চোখে পড়ছে এমন দৃশ্য। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, কেউ কেউ পোড়া উদ্ভিদের অংশ সংগ্রহের জন্যও আগুন দেন। অনেক সময় রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় জ্বলন্ত সিগারেটের উচ্ছিষ্ট বনে ফেলে দেওয়ায় আগুন লাগে। আবার বন ধ্বংস করে জমি দখলের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানো হয়। আবার এসব আগুন জ্বলতে জ্বলতে একসময় নিভে যায়। তবে অনেক ক্ষেত্রে দিনরাত এসব আগুন জ্বলতে থাকে। অনেক সময় আগুন লোকালয়ের কাছাকাছি এলে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই নেভানোর চেষ্টা করেন। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শ্রীপুর রেঞ্জের অধীনে মোট বনভূমির পরিমাণ ২৪ হাজার ২৭১ একর। এ অঞ্চলে একসময় ১০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৬ প্রজাতির উভচর, ৯ প্রজাতির সরীসৃপ ও ৩৯ প্রজাতির পাখির অস্তিত্ব ছিল। বন্যপ্রাণীর মধ্যে গন্ধগোকুল, খ্যাঁকশিয়াল, বাগডাশ, খরগোশ, শজারু, বেজি, কচ্ছপ, শূকর, বানর, কাঠবিড়ালি, গুইসাপসহ নানান প্রাণী ছিল। বনাঞ্চলে ঘন ঘন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গত দুই দশকে এসব প্রাণীর বেশির ভাগই এখন বিলুপ্তির পথে। স্থানীয় বাসিন্দরা বলেন, শীতের শেষের দিকে বনে এ ধরনের আগুন বেশি দেখা যায়। অনেক ছোট গাছ নষ্ট হয়ে যায়। এমনকি বড় গজারি গাছও মারা যায়। বৃষ্টি হলে আগুন নিভে যায়। তবে রোদে মাটি শুকিয়ে গেলে আবার আগুন জ্বলা শুরু হয়।
বন বিভাগের শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোখলেসুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো আমরা বনে টহল বৃদ্ধি করেছি। ফায়ারলাইন তৈরি করছি। স্থানীয়দের সচেতন করতে মাইকিং করা হচ্ছে এবং মসজিদে এ বিষয়ে বলা হচ্ছে। কিছু অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রও কেনা হয়েছে। বড় আকারের আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিস সহযোগিতা করে। তবে এ ক্ষেত্রে মানুষের সচেতনতা খুব জরুরি।’
