জ্বালানি মজুত সক্ষমতার অভাবে কতটা অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ যত তীব্র হচ্ছে, বিশ্ব অর্থনীতির আকাশে ততই অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে। অপরিশোধিত তেলের দাম এরই মধ্যে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে, কখনো ১২০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের তেল-গ্যাস অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কাতারের রাস লাফান শিল্প কমপ্লেক্সে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে— বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) কারখানা, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জোগান দেয়। ফলে তেল-গ্যাসের দাম তীব্রভাবে ঊর্ধ্বমুখী।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, সংঘাত আরো ছড়িয়ে পড়লে বা হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে তেলের দাম ২০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। এমন শঙ্কায় আমদানিনির্ভর দেশগুলো, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো অর্থনীতির জন্য জ্বালানি মজুদ সক্ষমতা আর শুধু ‘সঞ্চয়’ নয়—এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রধান ঢাল, অর্থনৈতিক সুরক্ষার দেয়াল। কিন্তু পর্যাপ্ত মজুদের অভাবে সেই দেয়ালে ফাটল ধরছে, বাড়ছে দেশের ঝুঁকি।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার অস্থির। ইরান তেলের দাম ২০০ ডলারে ওঠার হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যা এখন আর নিছক বাগাড়ম্বর মনে হচ্ছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, সংঘাত শেষ হলে দাম কমবে। কিন্তু মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। লন্ডনভিত্তিক ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের মতে, হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে দাম আরো বাড়বে।

জ্বালানি মজুদ সক্ষমতার অভাবে কতটা অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে বাংলাদেশমজুদ সক্ষমতা কেন অপরিহার্য? জ্বালানি মজুত একটি দেশের অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রথম প্রতিরক্ষা। সরবরাহ ব্যাহত হলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানো যায়, দাম হুট করে বাড়লে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব, কৌশলগত দর-কষাকষির শক্তি বাড়ে, আর জ্বালানির অভাবে বিদ্যুৎ-পরিবহন স্থবির হলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটে এসব দিক আরো প্রাসঙ্গিক। কৌশলগত তেল মজুদ বলতে সরকারি নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি তেল ভাণ্ডার বোঝায়, যা সংকটে ব্যবহৃত হয়।

১৯৭৩ সালের আরব তেল নিষেধাজ্ঞার পর যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭৫ সালে প্রথম বড় মজুত গড়ে তোলে। আন্তর্জাতিক এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) সদস্যদের সরকারি জরুরি মজুত ১২০ কোটি ব্যারেলের বেশি, শিল্প খাতে আরো ৬০ কোটি।
জ্বালানি মজুদে সর্বাধুনিক পদ্ধতি কী? জ্বালানি তেল মজুদের ক্ষেত্রে বর্তমানে বিশ্বের সর্বাধুনিক ও নিরাপদ পদ্ধতি হলো স্মার্ট মনিটরিং এবং আইওটি নিয়ন্ত্রিত স্টোরেজ সিস্টেম। এ ছাড়া ভূগর্ভস্থ লবণাক্ত গহ্বর, কাঠামোগত নকশার দিক থেকে ফ্লোটিং স্টোরেজ ট্যাংক এবং সাব-সি স্টোরেজ প্রযুক্তি সবচেয়ে আধুনিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে মাটির অনেক গভীরে লবণের স্তর বা সমুদ্রের নিচে ডবল ব্যারিয়ার প্রযুক্তিতে বিশাল পরিমাণ তেল দীর্ঘ মেয়াদে সংরক্ষণ করা হয়। বর্তমানে স্টোরেজ ট্যাংকগুলোতে আইওটি সেন্সর ব্যবহার করা হয়, যা রিয়াল টাইমে তেলের পরিমাণ, তাপমাত্রা এবং চাপের তথ্য সরবরাহ করে।

মজুদে কারা এগিয়ে: চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান এগিয়ে—জাপানের মজুত ২০০ থেকে ৩০০ দিনেরও বেশি, চীনের ৯০ থেকে ২২০ দিন, যুক্তরাষ্ট্রের ১৬০ দিনের ওপরে, ভারতের প্রায় ৭৪ দিন। আইইএর মানদণ্ড ৯০ দিন।

বাংলাদেশের অবস্থা শোচনীয়: দেশে গড়ে ৩০ থেকে ৪৫ দিনের মজুত সক্ষমতা, যা আইইএ মানদণ্ডের অনেক নিচে। সাম্প্রতিক সংকটে ডিজেলের মজুত ১০ থেকে ১৫ দিনের নিচে নেমেছে। বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য মজুত সক্ষমতার গুরুত্ব আরো বেশি। দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে, কিন্তু মজুত সক্ষমতা সেই তুলনায় বাড়েনি। ফলে বিশ্ববাজারে দামের অস্থিরতা বা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে দেশ। তেলের দাম বেড়ে গেলে বিপিসির লোকসানের বোঝা ভারী হয়। আর কম দামের সময় মজুদের অভাবে সুযোগ নেওয়া যায় না।

বিপিসির অধীন ২৭টি ডিপো এবং একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির ট্যাংকগুলোতেই এই মজুত। নদীপথ, রেলহেড ও বার্জ ডিপো মিলিয়ে সক্ষমতা অপর্যাপ্ত। বিপিসির তথ্য অনুসারে, ডিজেলের মোট সক্ষমতা ছয় লাখ ২৪ হাজার ১৮৯ টন। ২৪ মার্চ পর্যন্ত মজুত ছিল প্রায় এক লাখ ৮৫ হাজার টন (প্রায় ২৯ শতাংশ), যা ১২ থেকে ১৪ দিনের চাহিদা মেটাতে পারে। অকটেনের মজুত ৯ দিনের, পেট্রলের ১১ দিনের। চাহিদা বাড়ছে দ্রুত—২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫৫ লাখ টন থেকে এখন ৭৫ লাখ টন। চাহিদার ৭০ শতাংশ ডিজেল, বাকি পেট্রোল-অকটেন ইত্যাদি। প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে বাড়ছে।

২০২০ সালে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, কমপক্ষে ৬০ দিনের জ্বালানি মজুদ সক্ষমতা গড়ে তুলবে। ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় নতুন ট্যাংক, পার্বতীপুর ও পিতলগঞ্জে জেট ফুয়েল ট্যাংক— কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু অনেকগুলো এখনো অসম্পূর্ণ। মাতারবাড়ীর সিঙ্গল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্পের আওতায় নির্মিত প্রায় এক লাখ ২৮ হাজার টন ধারণক্ষমতার ট্যাংক দীর্ঘদিন ধরে পুরোপুরি ব্যবহৃত হচ্ছে না। ফলে ৬০ দিনের লক্ষ্য এখনো স্বপ্নই রয়ে গেছে।

পুরনো শোধনাগারের ওপর নির্ভরতাও বড় সমস্যা। বাংলাদেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি (ইআরএল) ১৯৬৩ সালে নির্মিত। বার্ষিক সক্ষমতা মাত্র ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন। অথচ দেশের মোট চাহিদা ৭৫ লাখ টন। ফলে বেশিরভাগ পরিশোধিত তেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, আমদানি ব্যয় বাড়ে। এই নির্ভরতা কমাতে সরকার বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ২৩ ডিসেম্বর একনেকে অনুমোদিত ইআরএলের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের ব্যয় ৩১ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। সরকারি অর্থায়ন ১৮ হাজার ৫৬৬ কোটি এবং বিপিসির নিজস্ব ১২ হাজার ৪৩৩ কোটি। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩০ সালের জুন। বাস্তবায়িত হলে পরিশোধন সক্ষমতা বেড়ে ৫৫ লাখ টনে উন্নীত হবে। দেশের মোট চাহিদার ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে পূরণ সম্ভব হবে। এই সীমিত সক্ষমতার কারণে বিশ্ববাজারের সামান্য অস্থিরতাও দেশের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেয়। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট আবারও প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এখনো ভঙ্গুর।

গ্যাসসংকটও গভীর: জ্বালানি তেলের পাশাপাশি গ্যাসসংকটও গভীর। রাস লাফানের ক্ষতিতে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত, দাম বেড়েছে। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন চাপে পড়বে। সংকট থেকে উত্তরণে সৌর-বায়ু শক্তিতে বিনিয়োগ জরুরি। স্পেন গ্যাসনির্ভরতা ১৫ শতাংশে নামিয়েছে, পাকিস্তান সৌরের অংশ ১০ শতাংশে তুলেছে। বাংলাদেশেও এই পথে যেতে হবে।

বিশ্লেষকরা স্পষ্ট বলছেন, গ্যাসকে পুরোপুরি এড়ানো যাবে না। নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। সূর্য সব সময় উজ্জ্বল নয়, বাতাস সব সময় বয় না। ব্যাটারি স্বল্পমেয়াদি ওঠানামা মসৃণ করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। জলবিদ্যুৎ সব দেশে সম্ভব নয়। পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যয়বহুল। তাই গ্যাসকে ব্যাকআপ হিসেবে রাখতে হবে। নেট-জিরো লক্ষ্যমাত্রায়ও গ্যাসের ভূমিকা থাকবে।

রিজার্ভের ওপর চাপ: ১৬ মার্চ পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.২২ বিলিয়ন ডলার (বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে ২৯.৫২ বিলিয়ন)। ব্যবহারযোগ্য প্রায় ২৬ বিলিয়ন, যা পাঁচ মাসের আমদানি মেটাতে পারে। তেলের দাম ১৫০ থেকে ২০০ ডলার হলে আমদানি ব্যয় বাড়বে, কোরবানির ঈদের ভোগ্যপণ্য আমদানির চাপও বাড়বে। এই পরিস্থিতিতে রিজার্ভের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে রেমিট্যান্সপ্রবাহেও অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা আরো শক্তিশালী করা প্রয়োজন। বৈদেশিক বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষা, অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়ানোর মতো নীতিগুলোকে আরো কার্যকর করতে হবে।

সরকার ভারত-পাকিস্তান-চীনের মডেল অনুসরণ করে কৌশলগত রিজার্ভ বাড়াতে পারে, সৌরশক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ করে আমদানি বিল কমাতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি-অনুসন্ধানে জোর দিতে পারে। এ ছাড়া জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী নীতি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং চাহিদা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে না পারলে সংকট আরো ঘনীভূত হতে পারে।

করণীয় কী? দীর্ঘ মেয়াদে মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশকে বহুমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ভারত-পাকিস্তান-চীনের মডেল অনুসরণ করে কৌশলগত রিজার্ভ দ্রুত বাড়াতে পারে, সৌরশক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ করে আমদানি বিল কমাতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি-অনুসন্ধানে জোর দিতে পারে।

প্রথমত, ৯০ দিনের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে মজুত ট্যাংক নির্মাণ ত্বরান্বিত করা। দ্বিতীয়ত, ইআরএল প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন। তৃতীয়ত, এলএনজি সঞ্চয়াগার ও পাইপলাইন সম্প্রসারণ। চতুর্থত, নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ—সৌর, বায়ু, ব্যাটারি। সময়ভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ চালু করে চাহিদা সরিয়ে নেওয়া। গ্রিডকে বড় ও স্মার্ট করা। স্থানীয় মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে যানজট কমানো। রাশিয়া-আফ্রিকা থেকে বৈচিত্র্যময় আমদানি।

আপৎকালীন পদক্ষেপ: তেলের প্রকৃত মজুত ও পাইপলাইনে কতটুকু আছে, তা স্পষ্ট করে জনগণের সামনে তুলে ধরা; একই সঙ্গে এটি যে মূলত মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাজনিত বৈশ্বিক সংকট, তা ব্যাখ্যা করে সর্বোচ্চ সহযোগিতা চাওয়া। সরকারি ছুটি অন্তত এক দিন বাড়ানো, অফিসের পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে দুই দিন অনলাইন করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিন দিন সশরীরে ক্লাস চালিয়ে বাকিটা অনলাইন রাখা, ব্যক্তিগত গাড়িতে জোড়-বিজোড় নম্বরের ভিত্তিতে অল্টারনেটিভ ডে চালু করা, আন্ত জেলা পরিবহন সীমিত করে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া জেলার বাইরে যাতায়াত নিরুৎসাহ করা যেতে পারে। সব সরকারি-বেসরকারি অফিস ও বাসাবাড়িতে এসি ব্যবহারে নিরুৎসাহ করা, চালাতে হলে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রিতে রাখা, স্যুট পরা সাময়িকভাবে বন্ধ করা, ব্যক্তিগত গাড়ি-বাইকে দৈনিক সর্বোচ্চ তেলের পরিমাণ নির্ধারণ করে লাইসেন্স/জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে হিসাব রাখা। তেল পাচার বন্ধে প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার করা এবং বিশ্ববাজারের সঙ্গে মিল রেখে অকটেন-পেট্রলের দাম দ্রুত সমন্বয় করা, গণপরিবহণ ও পণ্য পরিবহনের মূল্য স্থিতিশীল রাখা প্রয়োজন। মন্ত্রী-সচিবসহ সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গ্রুপে যাতায়াত করা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগাম লোডশেডিং সূচি প্রকাশ করা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করে রাশিয়ার তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া, স্পট মার্কেট থেকে কেনা তেল ও এলএনজির দাম-পরিমাণ জনগণকে নিয়মিত জানানো, একটি কেন্দ্রীয় ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেল গঠন করে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ব্রিফিং করা এবং জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের অন্য কেউ যেন অসংগতিপূর্ণ বক্তব্য না দেন, তা নিশ্চিত করা দরকার। পাশাপাশি বিটিভি, বেসরকারি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে জনগণকে জ্বালানি সাশ্রয়ে আহ্বান জানানো, ইমাম-পুরোহিতসহ ধর্মীয় গুরুদের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানো এবং সর্বদলীয় কমিটি গঠন করে রাজনৈতিক ঐক্য নিশ্চিত করা যেতে পারে।

সামগ্রিকভাবে কৌশলটি শুধু সংকট মোকাবিলা নয়, বরং টেকসই, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে। এর সফল বাস্তবায়ন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়নের জন্যও অপরিহার্য। যুদ্ধ শুধু দাম বাড়াচ্ছে না, মূল্যস্ফীতি, বাণিজ্য ও উন্নয়নে নতুন চাপ সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশের জন্য এটি সতর্কবার্তা। মজুত সক্ষমতা না বাড়ালে অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়বে। সরকারকে এখনই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, বিকল্প জ্বালানি ও মজুত বৃদ্ধিতে জোর দিতে হবে। জ্বালানি নিরাপত্তা না থাকলে উন্নয়নের স্বপ্ন অন্ধকারে হারিয়ে যাবে। এখনই সময় মজুতকে জাতীয় অগ্রাধিকারে পরিণত করার।

লেখক: সাংবাদিক ও বিশ্লেষক, কালের কণ্ঠের চিফ বিজনেস এডিটর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights