টাঙ্গাইলে যমুনার ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ চায় নদী তীরের মানুষ

মো. নাসির উদ্দিন, টাঙ্গাইল

উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে প্রতিদিনই বাড়ছে যমুনা নদীর পানি। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর, কালিহাতী, নাগরপুর, দেলদুয়ার ও টাঙ্গাইল সদর উপজেলার অর্ধশত গ্রামে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদী তীরের হাজারো মানুষ। জেলা প্রশাসন বলছে, ভাঙন কবলিত এলাকায় জরুরী সাহায্য বিতরণ করা হচ্ছে। যমুনার ভাঙনরোধে খুব দ্রুতই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে টাঙ্গাইলের যমুনা নদীতে আশঙ্কাজনকহারে পানি বাড়ছে। ফলে নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এছাড়া দ্রুত পানি বাড়ায় চরাঞ্চলে তিল ও পাটসহ নানা ধরণের ফসল পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। চোখের সামনে নিমিষেই যমুনার পেটে চলে যাচ্ছে- বসত-ভিটা, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমিসহ নানা স্থাপনা। ফলে ভাঙন কবলিত মানুষ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। সরিয়ে নিচ্ছে ঘরবাড়ি, অনেকে ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার সুযোগটুকুও পাচ্ছেন না। অসহায়ভাবে নিরবে ভাঙন দেখছেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলো। মানবেতর জীবনযাপন করছে ভাঙন কবলিতরা।

ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী, কষ্টাপাড়া, চিতুলিয়াপাড়া, মাটিকাটাসহ ২০টি গ্রামের ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ ছাড়াও কালিহাতী উপজেলার আলীপুর ও হাট আলীপুরসহ অন্তত ১০টি গ্রাম, নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ, তেবাড়িয়া, খাস ঘুনিপাড়াসহ অন্তত ২০টি গ্রাম, দেলদুয়ার ও সদর উপজেলার অন্তত ১০টির বেশি গ্রামে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারন করেছে। চোখের সামনে বসতভিটা, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে। তাকিয়ে দেখা ছাড়া কোন কিছুই করার নেই তাদের। ইতোপূর্বে কয়েক দফা বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দিলেও এর কোন কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি। ভাঙনের কারণে গৃহহীন মানুষ খোলা আকাশের নিচে, রাস্তায়, বাঁধে ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের কাছে ত্রাণ সহায়তা নয় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানায়।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার বলেছেন, ইতোমধ্যে ভাঙন কবলিত এলাকায় জরুরী ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করা শুরু হয়েছে। যমুনার ভাঙনরোধে ভূঞাপুর ও নাগরপুরে দুই পৃথক প্রকল্প চলমান রয়েছে। আরো কয়েকটি বড় প্রকল্প কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে।

গত এক দশকে যমুনা নদীর ভাঙনে ১০ হাজারের বেশি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। ভাঙনরোধে সহসাই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে যমুনার গর্ভে চলে যাবে অন্তত ১০টির বেশি গ্রাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights