ট্রাম্পের পাঁচ অসম্ভব শর্ত, ইরানকে যুদ্ধ করতেই হবে?

অনলাইন ডেস্ক
ওমানের মাসকাটে কূটনীতির আলাপ চললে ভারত মহাসাগরে জড়ো হচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনীর বিশাল নৌবহর। ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সাফল্যের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ইরানের বিরুদ্ধে এক চরমপন্থী অবস্থান নিয়েছেন। কূটনৈতিক মহল বলছে, ট্রাম্পের দেওয়া পাঁচটি শর্ত এতটাই কঠোর যে, সেগুলো মেনে নেওয়া ইরানের পক্ষে কার্যত অসম্ভব।

ইসরায়েলি সংবাদপত্র ‘মাআরিভ’-এর বরাতে জানা গেছে, ওয়াশিংটনের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর, সব পারমাণবিক স্থাপনা ও ব্যালিস্টিক মিসাইল সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মিত্র বাহিনীর প্রতি সমর্থন বন্ধ করা।

বিশ্লেষকদের মতে, এগুলো কোনো আলোচনার প্রস্তাব নয় বরং যুদ্ধের মুখে দেওয়া এক চূড়ান্ত আলটিমেটাম। ট্রাম্প এনবিসি নিউজকে সরাসরি বলেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির এখন অত্যন্ত চিন্তিত হওয়া উচিত। ট্রাম্পের এই আত্মবিশ্বাস মূলত ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে নতি স্বীকারে বাধ্য করার প্রেক্ষাপট থেকে এসেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ইরানকে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে তুলনা করা ভুল হবে কারণ তেহরান গত ৪৫ বছর ধরে ঠিক এই মুহূর্তটির জন্যই প্রস্তুতি নিয়েছে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আবদুলরহিম মুসাভি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তারা তাদের সামরিক নীতি রক্ষণাত্মক থেকে আক্রমণাত্মক অবস্থানে পরিবর্তন করেছেন। গত জুনের হামলার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইরান এখন অপ্রতিসম যুদ্ধ (অ্যাসিমেট্রিক ওয়ারফেয়ারের) নীতি গ্রহণ করেছে।

চ্যাথাম হাউসের পরিচালক ব্রনওয়েন ম্যাডক্সের মতে, ব্যালিস্টিক মিসাইল হলো ইরানের একমাত্র ঢাল; এই কর্মসূচি বন্ধ করার অর্থ হলো ইসরায়েলি বিমান শক্তি এবং মার্কিন স্টিলথ বোমারু বিমানের সামনে নিজেদের সম্পূর্ণ অরক্ষিত করে দেওয়া। কোনো ইরানি সরকারই এই আত্মঘাতী শর্ত মেনে নেবে না।

এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির মন্ত্রিসভার সদস্যরা এই আলোচনা নিয়ে ঘোর সংশয় প্রকাশ করেছেন। ইসরায়েলি জ্বালানি মন্ত্রী ইলি কোহেন দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক চুক্তির কোনো মূল্য নেই। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ প্রধান শেখ নাঈম কাসেম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে কোনো যুদ্ধ শুরু হলে তারা নিরপেক্ষ থাকবেন না। তার মতে, আসন্ন এই সংঘাত হবে সবার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক নিয়ে আলোচনার ওপর জোর দিলেও তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো আপস হবে না। যদিও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কমিয়ে ৩.৬৭ শতাংশে নামিয়ে আনতে তারা নমনীয় হতে পারে কিন্তু সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের প্রশ্নে তারা অনড়।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, এই আলোচনা সফল হওয়ার ব্যাপারে তারা সন্দিহান, কেবল আঞ্চলিক মিত্রদের অনুরোধেই তারা এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় কোনো কূটনৈতিক সমঝোতা না হলে সামরিক সংঘাতই একমাত্র পরিণতি বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে, আর ইরানের মতো পুরনো শত্রুকে আক্রমণ করা মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জনসমর্থন পাওয়ার একটি কার্যকর পথ।

শেষ পর্যন্ত যদি হামলা শুরু হয়, তবে ইরানও পাল্টা আঘাত হানবে। যার ফলে পুরো অঞ্চল এক ভয়াবহ সংকটে নিমজ্জিত হতে পারে। ট্রাম্পের এই ‘অসম্ভব’ পাঁচ দাবি আসলে প্রত্যাখ্যান করার জন্যই তৈরি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা কার্যত ইরানকে দ্বিতীয় দফার একটি বড় সামরিক সংঘাতের দিকেই ঠেলে দিচ্ছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights