ট্রাম্পের ‘মেইক ইরান গ্রেট এগেইন’ ক্যাপ নিয়ে তোলপাড়
অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সাম্প্রতিক ছবিকে কেন্দ্র করে ইরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার উত্তেজনা এখন চরমে। সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ছবিটিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এয়ার ফোর্স ওয়ানে বসে মেক ইরান গ্রেট এগেইন লেখা একটি ক্যাপ হাতে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা গেছে।
টুপিতে ট্রাম্পের স্বাক্ষরও রয়েছে। এটি নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ইরানে চলমান তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভের নবম দিনে এই ছবি প্রকাশের সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গত জুনে ১২ দিনের এক যুদ্ধের সময় ট্রাম্প প্রথম এই স্লোগানটি ব্যবহার করেছিলেন। তখন তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরানের শাসকরা যদি দেশকে মহান করতে না পারে তবে ক্ষমতা পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনার টেবিলে আসবে।
এদিকে, ইরানে অর্থনৈতিক সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন দেশটির ২৭টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা এখন সরাসরি দেশটির সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে। এরই মধ্যে নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে অন্তত ৩৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দুই বার সতর্ক করে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা বা হত্যাকাণ্ড চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। প্রয়োজনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার কথাও বলেন তিনি।
কিছুদিন আগেই ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলার মতো বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে যা বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরানের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে এই টুপির রাজনীতি নিছক কোনো প্রতীকী বিষয় নয় বরং এটি তেহরানের প্রতি স্পষ্ট বার্তা। ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা পেন্টাগনের কর্তা পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইতিমধ্যে গোল্ডেন ফ্লিট নামে নতুন ও শক্তিশালী নৌবহর তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির আরও প্রসারের ইঙ্গিত দিচ্ছে এই পরিকল্পনা। অন্যদিকে, ইরান এই হুঁশিয়ারিকে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করে পাল্টা যুদ্ধের হুমকি দিয়েছে। সব মিলিয়ে মেক ইরান গ্রেট এগেইন স্লোগানটি নিয়ে চলছে তুমুল জল্পনা।
সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল
