ট্রাম্পের যৌন নিপীড়ন মামলা নিয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে টানাপোড়েন!

অনলাইন ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দায়ের যৌন নিপীড়ন ও মানহানির মামলায় করা আপিল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে অস্বাভাবিক ধরনের বিলম্ব ও ধারাবাহিক স্থগিতাদেশ নজরে এসেছে।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন সাংবাদিক ই জেন ক্যারল।

জানা গেছে, আদালতের বিচারপতিরা গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নিয়মিত গোপন বৈঠকের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ট্রাম্পের করা আপিলটি তাদের আলোচ্য তালিকায় ছিল। তবে বৈঠকের মাত্র একদিন আগে কোনও ব্যাখ্যা ছাড়াই মামলাটি তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর থেকে মামলাটি অন্তত ১৫ বার আদালতের এজেন্ডায় যুক্ত ও পুনঃনির্ধারিত হয়েছে- বর্তমান মেয়াদে এমন ঘন ঘন পুনঃতালিকাভুক্তির ঘটনা বিরল বলে আইনি বিশ্লেষকদের ধারণা।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অস্বাভাবিক বিলম্বের কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। ধারণা করা হচ্ছে, বিচারপতিরা হয়তো একই মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য আপিল একসঙ্গে বিবেচনার জন্য অপেক্ষা করছেন, অথবা আদালতের ভেতরে কোনও মতামত বা রায় প্রণয়নের প্রক্রিয়া চলমান থাকতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে আদালত কোনও মন্তব্য করেনি।

এই আপিলের মাধ্যমে ট্রাম্প নিউইয়র্কের একটি জুরির দেওয়া ৫০ লাখ ডলারের রায় বাতিলের চেষ্টা করছেন, যেখানে তাকে যৌন নিপীড়ন ও মানহানির জন্য দায়ী করা হয়েছিল। এ রায়টি তিন বছরেরও বেশি আগে প্রদান করা হয়।

এর আগে, একই মামলার আরেকটি পৃথক রায়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণও নির্ধারণ করা হয়, যা তিনি পৃথকভাবে আপিল করেছেন। আইনজীবীদের হিসাব অনুযায়ী, সুদসহ ট্রাম্পের মোট দায় এখন ১০ কোটি ডলারেরও বেশি হতে পারে।

মামলার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ক্যারল প্রথমবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। পরে ২০২২ সালে নতুন আইনের আওতায় তিনি যৌন নিপীড়ন ও ব্যাটারির অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন। এই দ্বিতীয় মামলার বিচার আগে সম্পন্ন হয় এবং জুরি ট্রাম্পকে দায়ী করে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়।

ট্রাম্পের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন, বিচারক লুইস কাপলান প্রমাণ উপস্থাপনে গুরুতর ত্রুটি করেছেন। বিশেষ করে, আদালতে দু’জন নারীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং ২০০৫ সালের “অ্যাক্সেস হলিউড” টেপ প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত ছিল অনুচিত- এমন দাবি তাদের।

ওই টেপে ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, নারীদের অনুমতি ছাড়াই চুমু ও শারীরিকভাবে স্পর্শ করার বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, যা আদালত প্রাসঙ্গিক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করে।

অন্যদিকে, ক্যারলের আইনজীবীরা বলেছেন, বিচার প্রক্রিয়ায় আদালত সম্পূর্ণ এখতিয়ার অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং জুরির রায় যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আপিল আদালত ইতোমধ্যে ৫ মিলিয়ন ডলারের রায় বহাল রেখেছে এবং নতুন করে বিচার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছে। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে পূর্ণ বেঞ্চে পুনর্বিবেচনার আবেদনও প্রত্যাখ্যাত হয়, এরপর তিনি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন।

ট্রাম্পের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেন, এই মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এতে একজন প্রেসিডেন্টকে তার দায়িত্ব পালনের সময় অপ্রয়োজনীয় চাপের মধ্যে ফেলা হচ্ছে।

অন্যদিকে ক্যারলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিম্ন আদালত সঠিকভাবে আইন প্রয়োগ করেছে এবং জুরির রায় পরিবর্তনের কোনও যৌক্তিক ভিত্তি নেই।

সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহে বিচারপতিরা গোপন বৈঠকে আপিল গ্রহণ বা বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। তবে অনেক সময় কোনও কোনও মামলা একাধিক বৈঠকে পুনরায় তালিকাভুক্ত হয়। তবে এই মামলার ক্ষেত্রে “পুনঃতালিকা” বা বারবার পুনর্নির্ধারণের ঘটনা ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আদালতের ভেতরে অস্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

আইন বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিলম্ব হয়তো মামলাটিকে অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ট্রাম্প–ক্যারল আপিলের সঙ্গে একসঙ্গে বিবেচনার কৌশল হতে পারে। আবার কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে সতর্ক অবস্থান বলেও মনে করছেন।

বর্তমানে মামলাটি আবারও আদালতের এজেন্ডায় যুক্ত করা হয়েছে, যা চলমান আইনি লড়াইকে আরও দীর্ঘায়িত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্র: সিএনএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights