ট্রাম্পের সামনে বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের হার নিয়ে কথা বলব না: বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ জয়ের প্রসঙ্গ তুলবেন না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার। তাঁর ভাষায়, এমন একটি বিষয় নিয়ে কথা বলতে চান না, যা ট্রাম্পের অপছন্দের কারণ হতে পারে।
বার্ট ডি ওয়েভার রসিকতা করে বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন একটি সুনাম আছে যে, তিনি তাঁর অপছন্দের বিষয়গুলোতে মাঝে মাঝে একটু অসহিষ্ণু প্রতিক্রিয়া দেখান। আমার মনে হয়, এই হার তাঁকে বেশ আঘাত করবে।’
গত মঙ্গলবার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে হারায় বেলজিয়াম। তবে ম্যাচটি ফিফার একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে আলোচনার জন্ম দেয়।
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখায় মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগান এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। পরে সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে তাঁকে বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলার অনুমতি দেয় ফিফা।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বালোগানের শাস্তি পুনর্বিবেচনার জন্য ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্ব ফুটবলে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।
ডি ওয়েভার বলেন, ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দেওয়া অনেক নেতা তাঁকে বেলজিয়ামের জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘সবাই এই জয় নিয়েই কথা বলছে। অবশ্য পরাজিত পক্ষও এখানে উপস্থিত, আর তারা ঘটনাচক্রে ন্যাটোর সবচেয়ে বড় অংশীদার।’
ট্রাম্প এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করলে কী করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি নিজে থেকে এই বিষয়ে কথা শুরু করব না। তবে তিনি যদি কিছু বলেন, তখন তাঁর বক্তব্য শুনে প্রতিক্রিয়া জানাব।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে বেলজিয়ামের চতুর্থ গোলের পর কয়েকজন খেলোয়াড় গোল উদযাপনের সময় ট্রাম্পের পরিচিত নাচের ভঙ্গি অনুকরণ করেন। রেড ডেভিলসের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও গোলদাতা রোমেলু লুকাকুর ছবি প্রকাশ করে লেখা হয়, ‘এটি উল্টে দিন।’
বালোগানকে খেলার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর বেলজিয়াম ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছিল। ম্যাচ শেষে বেলজিয়ামের কয়েকজন খেলোয়াড়ও বলেন, এই বিতর্ক তাদের জয়ের অনুপ্রেরণা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।
ওভাল অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প স্বীকার করেন, বালোগানের লাল কার্ডের ঘটনা পুনর্বিবেচনার অনুরোধ তিনি করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি জানতামই না যে এই লাল কার্ড জিনিসটা আসলে কী।’
পরে ফিফা তাদের নিয়মের একটি ধারা প্রয়োগ করে বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত করে।
ফিফার এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। এ ঘটনায় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবিও ওঠে। তবে ইনফান্তিনো দাবি করেন, হোয়াইট হাউসের কোনো রাজনৈতিক চাপ ছাড়াই স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
