ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ায় আসলেই কি ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে?

অনলাইন ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণ করলেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ খুবই দ্রুততম সময়ে শেষ হবে বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এ বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে ‘গঠনমূলক আলোচনা’ হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

তবে এই ফোনালাপে ট্রাম্প কোনো দাবি জানিয়েছেন কি না সে বিষয়ে কোনো কথা বলেননি জেলেনস্কি। জেলেনস্কি বলেছেন, ‘হোয়াইট হাউসে আসতে যাওয়া নতুন প্রশাসনের নেতৃত্বে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে, এটা নিশ্চিত। তারা যুদ্ধ শেষ করতে চায়, দেশের নাগরিকদের কাছে এটিই তাদের প্রতিশ্রুতি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী বছর যুদ্ধ শেষ করতে এবং কূটনৈতিক উপায়ে শেষ করতে ইউক্রেনকে যা যা করা দরকার, করতে হবে।’
আজ শনিবার সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর একটি ছিল ইউক্রেন যুদ্ধের দ্রুত অবসান। এ যুদ্ধে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক-অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করে এসেছেন তিনি।

ট্রাম্পের সঙ্গে প্রায় আধ ঘণ্টার সেই কথোপকথনের প্রসঙ্গ তুলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। এমন কোনও কথা তিনি (ট্রাম্প) বলেননি, যা আমাদের ঘোষিত অবস্থানের পরিপন্থী।’’

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের ধারণা, আমেরিকার এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ের নেপথ্যে অন্যতম অনুঘটক হিসাবে কাজ করেছে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি। নির্বাচনের আগে ফিলাডেলফিয়ায় প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেটে (মুখোমুখি বিতর্কে) ট্রাম্প আশ্বাস দিয়েছিলেন, “আমি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামিয়ে দেব।’’ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরেও বিজয় ভাষণে হবু প্রেসিডেন্ট আশ্বাস দিয়েছিলেন, তিনি নতুন করে কোনও যুদ্ধ শুরু করবেন না। বরং যুদ্ধ থামাতে সাহায্য করবেন।

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোর ৬টায় রাশিয়ার সরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে জাতীর উদ্দেশে বক্তৃতায় কিভের বিরুদ্ধে ‘সামরিক অভিযানের’ ঘোষণা করেছিলেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউক্রেনের ‘নির্দিষ্ট ৭০টি লক্ষ্যে’ (মস্কোর বিবৃতি অনুযায়ী) ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান হামলা চালিয়েছিল রুশ বাহিনী। পাশাপাশি, স্থল এবং জলপথেও শুরু হয়ে গিয়েছিল আগ্রাসন। ডনবাস-রাশিয়া সীমান্তের পাশাপাশি, বেলারুশে মোতায়েন রুশ ট্যাঙ্ক এবং সাঁজোয়া ব্রিগেডগুলি সীমান্ত পেরিয়ে ইউক্রেনের মাটিতে ঢুকে অভিযান শুরু করেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights