ডারউইনের চেয়ে ১০ ডিগ্রি কম তাপমাত্রা, ম্যাকাইয়ে কন্ডিশনের পরীক্ষায় বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা নাজমুল হোসেন শান্তর দলের সামনে এখন সিরিজ জয়ের হাতছানি। তবে দ্বিতীয় টেস্টে অপেক্ষা করছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কন্ডিশন।

আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। ডারউইনের গরম ও আর্দ্র পরিবেশের পর তুলনামূলক শীতল আবহাওয়ায় খেলতে হবে বাংলাদেশকে। ফলে কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়াই হতে পারে সফরকারীদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

আগস্টে ডারউইনে দিনের তাপমাত্রা সাধারণত ৩২-৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকে। বিপরীতে ম্যাকাইয়ে তাপমাত্রা এখন ঘোরাফেরা করছে ২০-২২ ডিগ্রির মধ্যে। অর্থাৎ দুই ভেন্যুর মধ্যে তাপমাত্রার পার্থক্য প্রায় ১০ ডিগ্রি।

কুইন্সল্যান্ডের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত ম্যাকাইয়ে শীতকালে তাপমাত্রা কখনো ১০ ডিগ্রির নিচেও নেমে যেতে পারে। ঠান্ডা আবহাওয়া ও ভিন্ন পরিবেশে ডারউইনের ছন্দ ধরে রাখাই বাংলাদেশের জন্য বড় পরীক্ষা।

ম্যাকাইয়ের উইকেটে বাউন্স ও গতি থাকতে পারে। গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার পিচ তৈরির দায়িত্বে থাকা পিটার কাজাকফ এর আগে ব্রিসবেনের গ্যাবায় দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তাই পেসবান্ধব উইকেট তৈরির অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে।

তবে পাঁচ দিনের টেস্টের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ উইকেট তৈরিই তাঁর লক্ষ্য। ঠান্ডা আবহাওয়া থাকায় নতুন বলে সুইং ও সিম মুভমেন্টও বাড়তে পারে। ফলে মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের মতো অস্ট্রেলীয় পেসারদের সামলানো বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য কঠিন পরীক্ষা হতে পারে।

ডারউইনে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের অন্যতম বড় শক্তি ছিল ধৈর্য। প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করে সফরকারীরা। তানজিদ হাসান করেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪, মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ এবং মুমিনুল হকের ৪৯ রানের ইনিংসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ম্যাকাইয়ে নতুন বলে বল ভালোভাবে ব্যাটে এলে অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের সামনে বাংলাদেশের টপ অর্ডারকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। অফ স্টাম্পের বাইরে বল ছেড়ে দেওয়া এবং শট নির্বাচনে ধৈর্য ধরাই হতে পারে সাফল্যের চাবিকাঠি।

ডারউইনের ঐতিহাসিক জয়ের মূল কারিগর ছিলেন বাংলাদেশের পেসাররা। হাসান মাহমুদ ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন। ইবাদত হোসেন ও তাসকিন আহমেদও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট এনে দেন।

ম্যাকাইয়ের কন্ডিশনও বাংলাদেশের পেসারদের সহায়তা করতে পারে। নতুন বলে হাসান, তাসকিনদের সুইং ও সিম কাজে লাগানোর সুযোগ থাকবে। তবে অস্ট্রেলীয় ব্যাটাররা একবার উইকেটে থিতু হয়ে গেলে তাদের আক্রমণ সামলানো সহজ হবে না।

পেসারদের জন্য সহায়ক কন্ডিশন থাকলেও স্পিনারদের গুরুত্ব কমবে না। ডারউইনে দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

ম্যাকাইয়ের উইকেট ম্যাচের শেষ দিকে ভাঙতে শুরু করলে মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের ওপরও বড় দায়িত্ব পড়তে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ স্পেলে চাপ তৈরি করার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights