ডুবোযান টাইটানে বিস্ফোরণ হয়েছিল : মার্কিন কোস্টগার্ড

অনলাইন ডেস্ক

আটলান্টিক মহাসাগরে হারিয়ে যাওয়া ডুবোযান টাইটানে বিস্ফোরণ হয়েছিল বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ড। এছাড়া সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে, গভীর সমুদ্রের এ যানটির আরোহীদের কেউই বেঁচে নেই।

মার্কিন কোস্টগার্ড আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিং করে এ তথ্য জানিয়েছে।বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে আমেরিকার উপকূল রক্ষী বাহিনী আমেরিকান কোস্ট গার্ডের রিয়ার অ্যাডমিরাল জন মাগার জানান যে সমুদ্রতলে যেসব ভাঙা টুকরো পাওয়া গেছে সেগুলো টাইটান সাবমর্সিবলের অংশ বলে মিলে গেছে বলেই তাদের ধারণা।

টাইটান কীভাবে বিধ্বস্ত হল তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে যানটি তালিয়ে যাবার সময় তাতে আকস্মিক বিশাল একটি বিস্ফোরণ হয়েছে।
রিয়ার অ্যাডমিরাল মাগার বলেন, ভাঙা টুকরোগুলোর ধরণ ও আকৃতি থেকে বোঝা যাচ্ছে ডুবোযানটিতে “বিপর্যযকর বিস্ফোরণ” ঘটেছিল।

এর কারণ, তিনি বলেন, এর মধ্যে দুটি টুকরো রয়েছে: একটি হল টাইটানের টাইটানিয়ামের তৈরি সামনের ছুঁচলো মুখ এবং অন্যটি যানটির লেজের অংশ – যার থেকে ধারণা করা যায় ডুবোযানটি বিস্ফোরণে মাঝখান থেকে ফেটে যায়।

ডুবোযানটি নিখোঁজ হবার পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সেটির বিশাল অনুসন্ধান কাজ শুরু হয় যাতে অংশ নেয় আমেরিকা, কানাডা, ব্রিটিশ এবং ফরাসি বিভিন্ন বাহিনীর উদ্ধারকারীরা।

আরওভি নামে পরিচিত দূর-নিয়ন্ত্রণ চালিত পানির নিচের অনুসন্ধান যান এই ভগ্নাবশেষ খুঁজে পায় টাইটাইনিক জাহাজের ধ্বংসাবশেষ থেকে প্রায় ১৬০০ ফুট (৪৮০মিটার) দূরে।

সেখানে পাঁচটি পৃথক টুকরো খুঁজে পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করতে সক্ষম হয় যে সেগুলো টাইটানের ভাঙা টুকরো যার মধ্যে যানটির লেজের কোনাকৃতি একটি অংশও রয়েছে।

আমেরিকান কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা রিয়ার অ্যাডমিরাল জন মাগার এই দুঃসংবাদ জানান এক সংবাদ সম্মেলনে আমেরিকান কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা রিয়ার অ্যাডমিরাল জন মগার এই দুঃসংবাদ জানান এক সংবাদ সম্মেলনে

রিয়ার অ্যাডমিরাল মাগার বলেন, যানটির পাঁচজন আরোহীর মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হবে কিনা এ বিষয়ে তার কাছে কোন উত্তর নেই।

“সমুদ্রের তলদেশের পরিবেশ অত্যন্ত বিপজ্জনক,” তিনি জানান।

তিনি বলেন, কী ঘটেছিল সে বিষয়ে তদন্ত চলাকালীন আরওভি-গুলো ওই এলাকা ছেড়ে যাবে না।

কোন সংস্থা এই তদন্ত চালাবে তা এখনও স্পষ্ট নয়, কারণ কোন সাবমার্সিবলে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে তা তদন্তের দায়িত্ব কার সে বিষয়ে কোন নিয়মনীতি নেই।

রিয়ার অ্যাডমিরাল বলেছেনস বিষয়টি খুবই জটিল কারণ দুর্ঘটনা ঘটেছে আটলান্টিক মহাসাগরের একটি প্রত্যন্ত অংশে এবং ডুবোযানটিতে ছিলেন বিভিন্ন দেশের নাগরিক।

তবে এ পর্যন্ত যেহেতু অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছে আমেরিকান কোস্ট গার্ড কাজেই তদন্তের ব্যাপারে তাদের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights