ডেঙ্গুঝুঁকিতে শিশুরা

জয়শ্রী ভাদুড়ী
রাজধানীর উত্তর বাড্ডার বাসিন্দা সরোয়ার হোসেন, তাঁর স্ত্রী ও আট বছরের ছেলে তিনজনই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি। সরোয়ার হোসেন জানান, জ্বরের পর পরীক্ষায় সবার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর ছেলের প্লাটিলেট দ্রুত কমে যাওয়ায় আইসিইউতে নিতে হয়েছে।

এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। রাজধানীসহ সারা দেশে ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। আক্রান্তের উল্লেখযোগ্য অংশই শিশু। চিকিৎসকদের মতে এ বছর বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তাই জ্বর দেখা দিলেই দেরি না করে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, আক্রান্ত শিশুদের পর্যাপ্ত তরল খাবার, পুষ্টিকর খাদ্য ও ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল খাওয়াতে হবে। পেটে তীব্র ব্যথা, বারবার বমি, শ্বাসকষ্ট বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। একই সঙ্গে মশার কামড় থেকে সুরক্ষায় ফুলহাতা পোশাক, মোজা ব্যবহার এবং দিনের বেলায়ও মশারি টানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাড়ির আশপাশে কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৭ হাজার ৬৫৮ জন এবং মারা গেছে ৫৯ জন। আক্রান্তের মধ্যে শূন্য থেকে ২০ বছর বয়সি ৫ হাজার ৫৫১ জন; এ বয়সি মারা গেছে ১১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছে ২৪৯ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১ হাজার ২৮১ জন। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছে। বর্তমানে ডেঙ্গু কর্নারে চিকিৎসা দেওয়া হলেও প্রয়োজন হলে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ ডেডিকেটেড ওয়ার্ডে রূপান্তর করা হবে। কয়েকটি শিশু আইসিইউতেও চিকিৎসাধীন রয়েছে।’ তাঁর মতে এ বছর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে স্কুলগামী শিশুরা। তাই অভিভাবকদের আরও সতর্ক হতে হবে। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গুরোগী ভর্তি রয়েছে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে। রোগীর চাপ সামাল দিতে সেখানে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক দুটি ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৮ জন। শয্যা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় অনেক রোগীকে মেঝেতেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. নন্দ দুলাল সাহা জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ১৭০ জন রোগী শয্যায় এবং ২৫ জন মেঝেতে চিকিৎসাধীন। গত এক সপ্তাহে রোগীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ভর্তি রোগীদের মধ্যে প্রায় ৩০টি শিশু এবং প্রায় অর্ধেকই মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে রোগী বাড়ার আশঙ্কায় সব হাসপাতালকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুত রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে অতিরিক্ত শয্যা ও পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘এক-দুই দিনের জ্বর হলেও দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো উচিত। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights