ড্রাগন চাষ করে ভাগ্যবদল

শেখ রুহুল আমিন, ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার আজমপুর ইউনিয়নের বিদ্যাধরপুর গ্রামের ছেলে আরিফুল ইসলাম। নরসিংদী সরকারি পলিটেকনিক থেকে ডিপ্লোমা ও কম্পিউটার বিভাগে পড়াশোনা শেষ করে একটি বায়িং হাউসে ভালো বেতনে চাকরি পেয়ে যান। দুই বছর চাকরি করার পর হঠাৎই চলে এলো করোনাভাইরাস। বন্ধ হয়ে গেল কোম্পানি। বাধ্য হয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে আসতে হয় আরিফুলকে।

এরপর সংসারের হাল ধরতে পিতা ওহিদুল ইসলামের কাছ থেকে জমি আর কিছু টাকা নিয়ে ২ বিঘা ৫ কাঠা জমিতে শুরু করেন ড্রাগন চাষ। প্রথম বছরেই সাড়ে ৯ লাখ টাকার ড্রাগন বিক্রি করে দেখেন লাভের মুখ। তারপর ৩ বিঘা জমি থেকে সাড়ে ১২ লাখ টাকার ড্রাগন বিক্রি করেন। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। আশা করছেন এবার যে ফলন হয়েছে ৪ লাখ খরচ বাদ দিয়ে সাড়ে ৮ লাখ টাকা লাভ হবে ইনশাল্লাহ। তিনি জানান, একবার খরচ করে এই ড্রাগন ফল চাষ শুরু করলে ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। বছরে একবার ফল দেয়, তবে পরিচর্যা করতে হয়। কয়েক মাসের ব্যবধানে ৮ থেকে ১০ বার গাছ থেকে ফল কেটে বাজারে বিক্রি করা যায়। আরিফুল জানান, এই ড্রাগন চাষ করে তিনি নিজেই শুধু স্বাবলম্বী হননি, কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে এলাকার অনেক শ্রমিকের। তার দেখাদেখি অনেক শিক্ষিত যুবকও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন এই ড্রাগন চাষে। তাই ড্রাগনের পাশাপাশি শুরু করেছেন গবাদি পশু পালন। এলাকাবাসী জানান, কঠোর পরিশ্রমই আরিফুলকে শিক্ষিত যুবক থেকে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে এলাকায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।

আরিফুল ইসলাম জানান, করোনাভাইরাস চলে যাওয়ার কয়েকমাস পর কোম্পানি থেকে চাকরিতে ফিরে আসার জন্য ফোনে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু পিতার সঙ্গে গ্রামের মাঠে চাষ করছি। চাষে ভালো সাড়া পেয়ে গেছি এবং এলাকার অনেক শ্রমিক আমার খেতে কাজ করে জীবন-জীবিকা চালাচ্ছেন। সেই সঙ্গে স্বাধীনভাবে চলতেও পারছি। পিতা-মাতাসহ পরিবারকে সময় দিতে পারছি। সে কারণে চাকরিতে ফিরে যাইনি। তিনি বলেন আমার মতো কৃষি কাজকে ছোট করে না দেখে, শিক্ষিত যুবকেরা চাকরির পেছনে না ছুটে বা ঘুরে না বেড়িয়ে- চাষে মনোযোগী হলে স্বল্প সময়ের সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। তবে ইচ্ছা শক্তিই বড়। ইচ্ছা শক্তি না থাকলে কোনো কিছুতেই সফলতা আসবে না।

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ষষ্টি চন্দ্র রায় বলেন, এবার জেলার ছয়টি উপজেলায় ১ হাজার ১২০০ হেক্টর জমিতে অনেক শিক্ষিক যুবকসহ কৃষকরা ড্রাগন ফলের চাষ করেছেন। তাদের কারিগরি সহায়তাসহ বিভিন্ন রকম পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষিত যুবকরা চাকরির পেছনে না ছুটে স্বল্প সময়ের মধ্যে কৃষিতেই নিজেদের সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights