ড্রেনের ময়লা রাখা হচ্ছে সড়কে

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট

সিলেট নগরজুড়ে চলছে ড্রেন পরিষ্কারের কাজ। বৃষ্টিতে যাতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি না হয় সেজন্য সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে চলছে এ কর্মযজ্ঞ। কিন্তু ড্রেন থেকে তুলে আনা ময়লা রাখা হচ্ছে সড়কের পাশে। সঙ্গে সঙ্গে এ ময়লা পরিষ্কার না করায় ময়লা, কাদামাটি ও দুর্গন্ধে পথচলা দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিষ্কারেনগর ভবন কর্তৃপক্ষ বলছে, ড্রেন থেকে উঠানো ময়লা তরল হওয়ায় সেটি কিছুটা না শুকিয়ে অপসারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই নগরবাসীকে এ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সিসিক সূত্র জানায়, সামনে বর্ষা মৌসুম। প্রতি বছর বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টিপাত হলেই নগরজুড়ে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। এতে নাকাল হতে হয় নগরবাসীকে। তাই এবার আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে নগরীর পানি নিষ্কাশনের অন্যতম মাধ্যম ড্রেনগুলো পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে। নগরীর জিন্দাবাজার, জল্লারপাড়, বারুতখানা, জেলরোডসহ বিভিন্ন এলাকার ড্রেনের ওপরের স্ল্যাব খুলে ময়লা-আবর্জনা তুলে আনা হচ্ছে। ড্রেনে জমে থাকা বালু-পাথর ও পলিথিনসহ সব ধরনের আবর্জনা তুলে ড্রেনগুলোর পানি প্রবাহের ক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সিসিক। এসব ময়লা-আবর্জনা ড্রেন থেকে তুলে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সড়কের পাশে স্তূপ করে রাখছেন। ড্রেন পরিষ্কার হয়ে গেলেও এসব ময়লা-আবর্জনা সড়কের পাশেই পড়ে থাকছে। ময়লা পানি গড়িয়ে ড্রেনের পাশ থেকে পুরো সড়কে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে পথচারীরা সড়ক দিয়ে চলাচলে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। যানবাহন চলাচলের সময় ময়লা পানি ছিটকে পথচারীদের ওপর পড়ছে। এ ছাড়া ময়লার দুর্গন্ধে নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে নগরবাসীকে। লামাবাজার এলাকার বাসিন্দা এহিয়া মারুফ চৌধুরী জানান, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ড্রেন থেকে ময়লা তোলার পরপরই সেগুলো অপসারণ করা হলে নগরীর সড়ক নোংরা হতো না। কিন্তু সিটি করপোরেশন ময়লা পরিষ্কারে দুই-তিন দিন সময় নিচ্ছে। এতে নগরীর পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সড়ক দিয়ে চলাচল করতে মানুষের কাপড় নোংরা হচ্ছে। বৃষ্টি হলে ড্রেন থেকে উঠানো ময়লা ফের ড্রেনে চলে যাচ্ছে। পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে এবং নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে সিটি করপোরেশনের উচিত এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।

এ প্রসঙ্গে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মো. একলিম আবদীন জানান, ড্রেন থেকে যে ময়লা তুলে আনা হয় সেগুলো অনেকটা তরল ধরনের হয়। যে কারণে সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি দিয়ে অপসারণ করা যায় না। তরল অবস্থায় ময়লা অপসারণ করতে গেলে গাড়ি থেকে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। ময়লা অপসারণের জন্য অন্তত এক দিন সূর্যের আলোর প্রয়োজন পড়ে। যে কারণে নগরবাসীকে সাময়িক এ অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights