বৃষ্টিতে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

তীব্র তাপপ্রবাহে রাজধানীতে বৃষ্টি যেন আশীর্বাদ হয়ে এসেছিল। কিন্তু দুই দিনের বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ভারী বর্ষণে প্রধান সড়ক, অলিগলি ও নিম্নাঞ্চলে পানি জমে নগরজীবন অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ে। সড়কের খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তে বৃষ্টির পানি জমে বেড়েছে দুর্ভোগ। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষসহ ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।

গতকাল সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে ধানমন্ডি, মালিবাগ, গেন্ডারিয়া, আরামবাগ, শান্তিনগর, সায়েদাবাদ, শনিরআখড়া, পুরান ঢাকা, বংশাল, নাজিম উদ্দিন রোড, মিরপুর-১৩, হাতিরঝিল, আগারগাঁও, ফার্মগেট, তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, মেরুল বাড্ডা, ইসিবি ও কালশীসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটে এসেছিলেন জাহিদ আলম। তিনি বলেন, ‘জরুরি কাজ থাকায় বাধ্য হয়েই বের হয়েছি। এখন পানিতে খুব ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। কেনা মালামাল নিয়ে বাসায় যাব। পানিতে ভিজে যাবে কি না বুঝতে পারছি না।’ মালিবাগের জলিল চৌধুরী বলেন, ‘জলাবদ্ধতা আর যানজটে নগরজীবন অতিষ্ঠ। কোনো জায়গায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হলেও মালিবাগে হবেই। কয়েক বছর ধরে জলাবদ্ধতায় আমরা নাজেহাল হচ্ছি। তবু এই জলাবদ্ধতা নিরসনে কোনো উদ্যোগ নেই।’ সড়কে জলাবদ্ধতা হওয়ায় বিপাকে পড়তে দেখা গেছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষকে। শিক্ষার্থী শামীম আহমেদ বলে, ‘অল্প বৃষ্টিতেই গেন্ডারিয়ার অলিগলি তলিয়ে যায়। প্রতি বছর বর্ষাকালে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়। গলির মধ্যে হাঁটু পর্যন্ত পানি থাকে। স্কুলের ড্রেস ভিজে যায়। অসম্ভব বিরক্তি লাগে।’ ভারী বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাটের বেহাল দশা হওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কষ্ট বিবেচনায় নিয়ে পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারের সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার্স স্কুলের গতকালের পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। মহাখালীর সিএনজিচালক জসিম উদ্দিন বলেন, টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন সড়কে পানি জমে থাকায় গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ট্রিপও কম হয়েছে। গুলশানের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী এহসানুল হক বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে অফিসে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, অব্যাহত বৃষ্টির কারণে সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হলেও পানি নিষ্কাশনে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখা হয়েছে। কমলাপুর পাম্প স্টেশনসহ বিভিন্ন পাম্প হাউস চালু রেখে পানি সরানোর কাজ অব্যাহত রয়েছে।

বৃষ্টিপাত থাকতে পারে আরও পাঁচ দিন : দক্ষিণী বায়ু এবং বজ্র মেঘ তৈরি হওয়ার কারণে আরও পাঁচ দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। অধিদপ্তর বলছে, ৫ মে পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এ পরিস্থিতি। অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুননেসা গতকাল বলেন, পশ্চিম দিকে সৃষ্ট ঝঞ্ঝার কারণে দেশে বজ্র মেঘ তৈরি হচ্ছে, ফলে এবার বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কিছুটা বেশি। আগামী ৪ মে পর্যন্ত দেশে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

প্রাক-বর্ষা মৌসুম কিছুটা সরে আসায় এখন বৃষ্টিপাত হচ্ছে বলে জানান তিনি। এদিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কায় জনসাধারণকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, আকাশে ঘন কালো মেঘ দেখা গেলে বা বজ্রধ্বনি শোনা মাত্রই সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে। শিশুসহ পরিবারের সবাইকে ঘরের ভিতরে অবস্থান করতে হবে। এ সময় মাঠে খেলাধুলা এবং দলবদ্ধ হয়ে অবস্থান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। গাছ বা ধাতব ছাউনির নিচে আশ্রয় নেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বজ্রধ্বনি শোনার পরও অন্তত ৩০ মিনিট নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights