তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী অবিলম্বে পাশের দাবি

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
২১ সেপ্টেম্বর,২০২৩: চলতি সংসদ অধিবেশনেই বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী পাশের দাবি জানিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের (ইউল্যাব) শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) নারী মৈত্রী আয়োজিত ‘২০৪০ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী দ্রুত পাশের গুরুত্ব’ বিষয়ক অরিয়েন্টেশনে তারা এ দাবি তুলে ধরেন। আয়োজনে নারী মৈত্রীর সঙ্গে সার্বিক সহায়তায় ছিল ইউল্যাব রেডিও ক্যাম্পবাজ।
যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউল্যাবের রেজিস্ট্রার লে. কর্নেল মোঃ ফয়জুল ইসলাম (অব.)। বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. আব্দুস সালাম মিয়া, প্রোগ্রামস অফিসার, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস (সিটিএফকে), বাংলাদেশ, হুমাইরা সুলতানা, কমিউনিকেশন ম্যানেজার, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস (সিটিএফকে) এবং আতাউর রহমান,অ্যাডভোকেসি ম্যানেজার, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস (সিটিএফকে)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাম্মা রুশাফি অবন্তী, ডিজিটাল ক্রিয়েটর, শাম্মা শ্যাডোস।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশি ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার করে বলে গবেষণায় দেখা গেছে। নারীরা মুখের ক্যানসার, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকসহ অনেক জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এছাড়া তামাকের কারণে গর্ভবতীদের গর্ভপাত হচ্ছে, সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মায়ের মৃত্যুও হচ্ছে। নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তাই তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী দ্রুত পাশ করার দাবি জানাই।
শিক্ষার্থীদের সামনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খালিদ বিন ইউসুফ। তিনি জানান, তামাক ব্যবহারের দিক থেকে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষে। বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭৮ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন। কর্মক্ষেত্রসহ পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন ৩ কোটি ৮৪ লাখ মানুষ। আর তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এমন পরিস্থিতিতে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (২০১৩ সালে সংশোধিত) যুগোপযোগী করে বৈশ্বিক মানদন্ডে উন্নীত করতে ছয়টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়।
সুপারিশগুলোর মধ্য রয়েছে- সকল পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ‘ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান’ নিষিদ্ধ করা; তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রয়স্থলে তামাকজাত পণ্য প্রর্দশন নিষিদ্ধ করা; তামাক কোম্পানির যেকোনো ধরনের সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কর্মসূচি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা; তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট/কৌটায় সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা; বিড়ি-সিগারেটের খুচরা শলাকা, মোড়কবিহীন এবং খোলা ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা এবং ই-সিগারেটসহ সকল ইমার্জিং ট্যোব্যাকো প্রোডাক্টস্ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা।
সিটিএফকের প্রোগ্রামস ম্যানেজার মোঃ আব্দুস সালাম মিয়া বলেন, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ বিদ্যমান ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫, (সংশোধিত ২০১৩) এর অধিকতর সংশোধনী আনায়নের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত যে খসড়াটি প্রণয়ন করেছে, যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে পরোক্ষ ধূমপানের হাত থেকে অধূমপায়ীদের রক্ষা করা বিশেষ করে নারী-শিশু ও তরুণদের এবং নতুন করে যাতে কেউ ধূমপানে আসক্ত হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক করা। এই আইন পাশ হলে, দেশে তামাক সেবনকারীদের সংখ্যা কমবে এবং এসজিডির লক্ষমাত্রা পূরণ হবে। শুধু তাই নয়, তামাকের কারণে প্রতিদিন যে ৪৪২ জন মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে, সেটিও কমানো সম্ভব হবে। আমাদের দাবি, আগামী তরুণ প্রজন্মকে বাঁচাতে এই সংসদেই যাতে আইনটি পাশ করা হয়।
শাম্মা রুশফি অবন্তী বলেন, বর্তমানে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও ই- সিগারেটে আসক্ত হয়ে পড়েছে। ই-সিগারেটকে তারা ফ্যাশন হিসেবে মনে করছে। এমন পরিস্থিতিতে ই-সিগারেটসহ সকল ইমার্জিং ট্যোব্যাকো প্রোডাক্টস্ পুরোপুরি নিষিদ্ধের দাবি জানাই।
ইউল্যাবের রেজিস্ট্রার লে. কর্নেল মোঃ ফয়জুল ইসলাম (অব.) নারী মৈত্রীর এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের যে সকল সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয়েছে, সেই আইন চলতি সংসদ অধিবেশনে পাশের দাবি জানাই। পাশাপাশি নতুন করে কেউ যাতে ধূমপানে আসক্ত না হতে পারে, সেই শিক্ষা পরিবার থেকেই প্রদান করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
##………

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights