তারা দেখার জন্য সেরা আকাশ ফ্রান্সের, শীর্ষ দশে আরও আছে কারা?

অনলাইন ডেস্ক

মহাকাশের সৌন্দর্য উপভোগ আর তারা গোনার নেশায় বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের ঝোঁক এখন স্টারগ্যাজিং বা নৈশআকাশ দর্শনের দিকে। খালি চোখে মিল্কিওয়ে ছায়াপথ কিংবা উল্কাপাত স্পষ্ট দেখার তীব্র আকাঙ্ক্ষায় ব্যাকুল ভ্রমণপিপাসুদের জন্য সম্প্রতি বিশেষ এক তালিকা প্রকাশ করেছে ই-সিম সেবা প্রদানকারী সংস্থা হোলাফ্লাই। বিশ্বের সেরা তারা দেখার স্থানগুলো নিয়ে তৈরি তাদের প্রথম ‘ক্লিন স্কাই ইনডেক্স’-এ সবাইকে ছাড়িয়ে শীর্ষস্থান দখল করে নিয়েছে ফ্রান্সের বিখ্যাত পর্যটন ও গবেষণা কেন্দ্র ‘পিক দ্যু মিডি’।

সাধারণত রাতের আকাশ কতটা অন্ধকার শুধু সেটির ওপর ভিত্তি করেই এ ধরনের তালিকা করা হয়। তবে হোলাফ্লাইয়ের এই গবেষণায় আকাশের নির্মলতার পাশাপাশি পর্যটকদের ভ্রমণের সুযোগ-সুবিধাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গবেষকরা রাতের আলো দূষণের মাত্রা, সারা বছরে মেঘমুক্ত রাতের অনুপাত, আন্তর্জাতিক যোগাযোগব্যবস্থা থেকে দূরত্বের ভিত্তিতে সহজগম্যতা এবং আন্তর্জাতিক ডার্কস্কাই সংস্থার স্বীকৃতি; এই চারটি প্রধান শর্ত বিবেচনা করে পয়েন্ট নির্ধারণ করেছেন। মূল উদ্দেশ্য ছিল এমন সব স্থান খুঁজে বের করা, যেখানে আকাশ যেমন ঝকঝকে হবে, পৌঁছানোও হবে তুলনামূলক সহজ।

এই সমীক্ষাতেই অন্যসব বিখ্যাত স্থানকে পেছনে ফেলে বাজিমাৎ করেছে ফরাসি পাইরেনিস পর্বতমালায় অবস্থিত পিক দ্যু মিডি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। অন্যান্য অনেক চরম অন্ধকার অঞ্চলের তুলনায় এটি পর্যটকদের জন্য বেশ সুগম। উদাহরণস্বরূপ, লন্ডনের মতো প্রধান আন্তর্জাতিক হাব থেকেও মাত্র চার ঘণ্টার ব্যবধানে এই পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে পৌঁছে যাওয়া যায়। যাতায়াতের এমন দুর্দান্ত ব্যবস্থার কারণেই তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে পিক দ্যু মিডি।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ডার্ক স্কাই পার্ক হিসেবে স্বীকৃত সাইডিং স্প্রিং অবজারভেটরিসমৃদ্ধ ওয়ারামবাঙ্গল ন্যাশনাল পার্ক রয়েছে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। কানাডার সবচেয়ে অন্ধকারচ্ছন্ন ডার্ক স্কাই প্রিজার্ভ হিসেবে পরিচিত গ্রাসল্যান্ডস ন্যাশনাল পার্ক অর্জন করেছে তৃতীয় স্থান। বৈজ্ঞানিক পরিমাপ অনুযায়ী সবচেয়ে গভীর ও অন্ধকার রাতের আকাশ ধারণ করে চতুর্থ স্থানে জায়গা করে নিয়েছে নামিবিয়ার নামিবর্যান্ড নেচার রিজার্ভ। তবে কেবল দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সামান্য পয়েন্ট হারিয়ে এটি শীর্ষ তিন থেকে পিছিয়ে পড়ে।

তালিকায় এর পরপরই রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরবের ঐতিহাসিক প্রান্তর আল-উলা। এ ছাড়া পৃথিবীর শুষ্কতম অঞ্চল হিসেবে পরিচিত চিলির আতাকামা মরুভূমি নিজের অবস্থান ধরে রেখে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। পাশাপাশি স্পেনের লা পালমা, নিউজিল্যান্ডের আওরাকি ম্যাকেঞ্জি, যুক্তরাষ্ট্রের মাউনা কিয়া এবং চেরি স্প্রিংস স্টেট পার্কের মতো বিশ্বখ্যাত অঞ্চলগুলোও স্থান করে নিয়েছে সেরা দশে।

সূত্র: ইউরো নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights