তিনি একাই মোদির প্ল্যান উল্টে দিলেন
অনলাইন ডেস্ক
দেশজুড়ে তুমুল ছাত্র আন্দোলনের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আর এই ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে একটি অভিনব ও ভাইরাল রাজনৈতিক আন্দোলন—’ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজিপি) এবং এর প্রতিষ্ঠাতা ৩০ বছর বয়সি রাজনৈতিক কৌশলবিদ অভিজিৎ ডিপকে।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্নফাঁস এবং সরকারি পরীক্ষার অনিয়মের বিরুদ্ধে তরুণ সমাজকে এক ছাতার নিচে এনে এই আন্দোলন রূপ নিয়েছে এক অপ্রতিরোধ্য ঝড়ে।
মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদে জন্ম নেওয়া অভিজিৎ পুনে থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর আমেরিকার বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে পাবলিক রিলেশন্স-এ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। এর আগে ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আম আদমি পার্টির (আপ) সোশ্যাল মিডিয়া ও নির্বাচনী প্রচার দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে দলটির মিম-ভিত্তিক ডিজিটাল প্রচারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন এই তরুণ। আমেরিকার মাটিতে থাকাকালীনই তিনি প্রতীকী ও শ্লেষাত্মক ভঙ্গিতে গড়ে তোলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।
গত ২০ জুলাই এই আন্দোলনের ব্যানারে ‘চলো সংসদ’ মার্চকে কেন্দ্র করে দিল্লির যন্তর মন্তরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটালে রাজধানীতে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। আন্দোলনের তীব্রতা এতটাই বেড়ে যায় যে, সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর শনিবার নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
মন্ত্রীর পদত্যাগের পর অভিজিৎ ডিপকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, লড়াই এখানেই শেষ নয়। তাঁদের আরও দুটি মূল দাবি রয়েছে, নিট পরীক্ষায় আত্মহত্যা করা প্রতিটি শিক্ষার্থীর পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে নিজের এই সাফল্য সত্ত্বেও নিজেকে কোনো ‘নায়ক’ হিসেবে তুলে ধরতে নারাজ অভিজিৎ। তার সাফ কথা, অতীতে একজনকে হিরো বানানোর খেসারত দেশকে চুকিয়ে দিতে হয়েছে, তাই ছাত্রসমাজ ও স্বেচ্ছাসেবকদের ঐক্যই এই বিজয়ের একমাত্র আসল নায়ক।
