তিস্তাসহ চার নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক

তিস্তাসহ দেশের চার নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। রংপুর অঞ্চলে অতিভারী বৃষ্টির আভাস থাকায় এই অঞ্চলের নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। রবিবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এমন তথ্য জানিয়েছে।

পাউবো বলছে, বর্তমানে তিস্তা নদী ডালিয়া, কাউনিয়া ও তারাপুর স্টেশনে সতর্কসীমায় রয়েছে। এছাড়া সুরমা নদী ছাতক ও সুনামগঞ্জ স্টেশনে, কুশিয়ারা নদী ফেঞ্চুগঞ্জ ও মারকুলি স্টেশনে এবং সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা স্টেশনে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।

ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও গঙ্গা, পদ্মা অববাহিকা : গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানির সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী পাঁচদিন এ নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। তবে পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সুরমা, কুশিয়ারা ও সিলেট বিভাগ : উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় স্থিতিশীল ছিল। তবে আগামী তিন দিন এই অববাহিকার পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে একটি স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। সিলেট বিভাগের সারিগোয়াইন, মনু ও যাদুকাটা নদীর পানি হ্রাস পেলেও ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী তিনদিন আরও বাড়তে পারে।

রংপুর বিভাগ : গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তিস্তা নদীর পানি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। আগামী দুইদিন এই অঞ্চলের নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়ে তৃতীয় দিনে স্থিতিশীল হতে পারে। তবে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা দেখা দিতে পারে।

ময়মনসিংহ বিভাগ : ময়মনসিংহ বিভাগের সোমেশ্বরী, জিঞ্জিরাম, ভুলাই ও কংস নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী তিনদিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এই সময়ে নদীগুলো নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলায় সতর্কসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এর ফলে নদীসংলগ্ন কিছু কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগ : পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া, ফেনী, হালদা ও মাতামুহুরী নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় হ্রাস পেয়েছে। তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিনদিন এই অঞ্চলের নদীগুলোর পানি অত্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights