দিনাজপুরে আমিন ধ্বনিতে শেষ হলো তিন দিনের জেলা ইজতেমা
দিনাজপুর প্রতিনিধি:
লাখো মুসল্লির ‘আমিন, আমিন’ ধ্বনিতে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে তিন দিনব্যাপী তাবলিগ জামাতের দিনাজপুর জেলা ইজতেমা। রবিবার দুপুরে দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে এ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল থেকেই আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে ইজতেমা মাঠে। রবিবার বেলা ১১টা ৫৭ মিনিটে মোনাজাত শুরু হয়ে শেষ হয় দুপুর ১২টা ১৯ মিনিটে। ২২ মিনিটের মোনাজাতে বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের সব মুসলমানের শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা কামনা করা হয়। বিশেষ করে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের জন্য দোয়া করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন বাংলাদেশ তাবলিগ জামাতের শুরা সদস্য হজরত মাওলানা মনির বিন ইউসুফ।
সকাল থেকেই গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানের ইজতেমা মাঠে সমবেত হতে থাকেন মুসল্লিরা। বেলা ১০টার মধ্যে ইজতেমা মাঠ ও আশপাশের এলাকা জনারণ্যে পরিণত হয়। প্যান্ডেল ছাড়িয়ে আশপাশের বাসাবাড়ি, সরকারি-বেসরকারি অফিস, সড়ক, ঈদগাহ মাঠ, শিশু পার্কসহ পুরো বড় ময়দান ও আশপাশের এলাকায় মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। আয়োজক ও সাধারণ মুসল্লিদের দাবি, মোনাজাতে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ অংশ নেন।
মোনাজাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্য, নারী ও শিশুসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
ইজতেমার শেষ দিন রবিবার বাদ ফজর বয়ান করেন ঢাকার কাকরাইলের মুরব্বি মো. হারুনুর রশিদ। সকাল ৯টা থেকে বয়ান করেন দিনাজপুর জেলা তাবলিগ জামাতের আমির ও হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম। তাঁর বয়ানের পর হেদায়েতি বয়ান করেন কাকরাইলের মুরব্বি মো. শাহাদাত হোসেন। মোনাজাতের আগে সংক্ষিপ্ত বয়ান করেন মাওলানা মনির বিন ইউসুফ।
ইজতেমা মাঠের চারপাশে মুসল্লিদের নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
দিনাজপুর জেলা তাবলিগ জামাতের আমির অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম জানান, ইজতেমা থেকে ৫ মাসের জন্য বিদেশ সফরের ১২টি জামাত, ২ মাসের মাস্তুরাতসহ সফরের ৭টি জামাত, ১ চিল্লার মাস্তুরাতসহ সফরের ২৮টি জামাত, ৩ চিল্লার পুরুষদের ২টি জামাত, ১ চিল্লার পুরুষদের ১১টি জামাত, ১ চিল্লার বধিরদের ২টি জামাত এবং দিনের ৯২টি জামাত গঠন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে জামাতের সংখ্যা ১২৮টি।
ইজতেমা আয়োজনে সহযোগিতা করায় আগত মুসল্লি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
