দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশন জুড়ে ময়লার ভাগাড় বিদ্যুৎ ও পানির অপচয় সরকারি রাজস্বের ব্যাপক ক্ষতি

মোঃ ইসমাইল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি ॥ দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনে বিদ্যুৎ ও পানি অপচয়, সরকারি রাজস্বের ব্যাপক ক্ষতিসাধন, রেলওয়ে স্টেশনের ভেতরে ও বাহিরে ময়লার ভাগাড়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ভোগান্তি বাড়িয়ে তোলে পথচারীদের, প্রায়শই নির্গত নোংরা ও ময়লা পানির উপর দিয়েই বাধ্য হয়ে হেঁটে যেতে হয় ট্রেন যাত্রীসহ স্থানীয়দের। (গ্রেড-৩) স্টেশন মাস্টার (শুখান পুকুর) অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা (এস.এস) দিনাজপুর (এ.বি.এম) জিয়াউর রহমানের অপসারণ দাবি দিনাজপুর জেলাবাসীর।

বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের কারণে, যোগ্যদের পরিবর্তে গুরুত্বপূর্ণ (এস.এস) পদের দায়িত্বে নিম্ন পদের কর্মকর্তা দারা দায় সারা কর্মসম্পাদন, প্রতি মুহূর্তে অনিয়ম বৃদ্ধির কারণ। নষ্ট হচ্ছে সমৃদ্ধি ও সুনাম, একই স্টেশন দিনাজপুরে প্রায় ৬ বছর চাকুরিতে অবস্থান অন্যত্র বদলি না হওয়ায়, বাংলাদেশ রেলওয়ে সংবিধান অনুযায়ী (জি.এস) রুল (জি.আর) রুল পরিপন্থি।

অদক্ষ লোক দারা পরিচালিত হওয়ায় ঐতিহ্য হারাতে বসেছে, প্রথম শ্রেণির রেলওয়ে স্টেশন দিনাজপুর। রেলওয়ে স্টেশন প্লাটফর্ম রেল লাইনের ¯ি¬পারের উপর স্টেশনের বহির বিভাগ যেন ময়লার ভাগাড়, কর্তব্য অবহেলায় পানির ট্যাংকি ভর্তি হওয়ার পরেও (ঘণ্টার পর ঘণ্টা) পানি তোলার মোটর বন্ধ না করায়, প্রায় সব সময় পানি দারা থাকছে (ছিপছিপে) পরিবেশ, যা অসহনীয় করে তুলেছে যাত্রী সাধারণ ও স্থানীয়দের জন জীবন। অপরিচ্ছন্ন অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় থাকছে প্রতিদিন, যাত্রীদের সেবাদান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন সুন্দর পরিবেশ হারিয়ে গেছে (এস.এম) (গ্রেড-৩) স্টেশন মাস্টার শুখান পুকুর, দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনে অতিরিক্ত (এস.এস) (এ.বি.এম) জিয়াউর রহমানের এর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই।

প্রায় (৬বছর) পূর্বে দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনে অতিরিক্ত দায়িত্বে যোগদান করেন (এস.এম) (গ্রেড-৩) শুখান পুকুর, স্টেশন মাস্টার (এ.বি.এম) জিয়াউর রহমান। অতিরিক্ত দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দেখা যায় কর্তব্য অবহেলার চিত্র, নোংরা ময়লা আবর্জনা ভর্তি হয়ে থাকছে পুরো রেলওয়ে স্টেশনের ভেতরে ও বহির বিভাগ এলাকা জুড়ে। নিয়মিত তদারকি না থাকায়, বেড়েছে (বিদ্যুৎ ও পানির অপচয়) সরকারি রাজস্ব ক্ষতিসাধন করেই চলেছে (এস.এম) (গ্রেড-৩) স্টেশন মাস্টার (এ.বি.এম) জিয়াউর রহমান।

পানির ট্যাংকি ভর্তি হয়ে উপচে পড়ায় স্টেশনের বহির বিভাগে পানি জমে গেলেও পানি উঠানোর মোটর বন্ধ করার খেয়াল থাকেনা রেলওয়ে (কর্মকর্তা-কর্মচারীদের) প্রায় সব সময় বিরাজ করে (স্যাঁতসেঁতে) পরিবেশ, ট্রেনে যাতায়াতকারী যাত্রী সাধারণ ও স্থানীয়দের বেড়ে যায় ভোগান্তি। ফলে বিদ্যুৎ ও পানির ব্যাপক অপচয় হচ্ছে ক্ষতি হচ্ছে সরকারি রাজস্বের।

ক্ষতি হচ্ছে জনগণের টেক্স ভ্যাট করের টাকার, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ, পানির অপচয়ের ফলে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতিসাধন হচ্ছে সরকারের, এই দৃশ্য প্রতিদিনের। ‘‘এই অর্থ অপচয়তো স্টেশন মাস্টার জিয়াউর রহমান দেবেন না’’ (গ্রেড-১) স্টেশন সুপারিন্টেন্ডেন্ট না থাকায় এই সকল ক্ষতিসাধন ও সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেছেন যাত্রী সাধারণসহ স্থানীয়রা।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, চাকুরির শুরুতে দিনাজপুর চিরিরবন্দর স্টেশনে যোগদান করেন, (এ.বি.এম) জিয়াউর রহমান। প্রাথমিক অবস্থায় লার্নিং ডিউটি নেন, তাকে প্রশিক্ষণ দেন তৎকালীন সময়ের, স্টেশন মাস্টার বিমল সরকার, পরবর্তীতে বগুড়া জেলার শুকান পুকুর স্টেশন মাস্টার (গ্রেড-০৩) হিসেবে যোগদান করেন।

সেখানে কর্মরতকালীন অবস্থায় জনগণ দারা লাঞ্ছিত হন, এরপর বোনার পাড়া স্টেশনে কর্মরত থাকা অবস্থায়, রেলওয়ে শ্রমিক লীগের হাতে গণ ধলাইয়ের শিকার হন, দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনের (গ্রেড-০১) স্টেশন সুপারিন্টেনডেন্ট না থাকায় (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্ব পান (এ.বি.এম) জিয়াউর রহমান। দীর্ঘ (৬বছর) অতিবাহিত হলেও এখনো তিনিই দায়িত্বে রয়েছেন, যা বাংলাদেশ রেলওয়ে সংবিধান অনুযায়ী (জি.এস) ও (জি.আর) রুল পরিপন্থি।

প্রতিদিন (এস.এস) অফিস রুমে দেখা যায়, বিতর্কিত দুর্নীতি পরায়ণ, অবসরে যাওয়া কর্মকর্তা/কর্মচারীদের নিয়ে খোশ গল্পে মগ্ন রয়েছেন, ‘‘অফিস রুমের বাহির থেকে বোঝা যায় যেন কোন মিটিং চলছে’’। যাত্রী সাধারণ, টিকিট বিষয়সহ যে কোনো বিষয়ে অভিযোগ করতে-বলতে, অফিস রুমে ঢোকারই সাহস পান না। একটি বেসরকারি স্কুল শিক্ষক, কায়সার নামক ব্যক্তির সঙ্গে গোড়ে তুলেছেন বন্ধুত্ব, অফিসের খাতায় সিগনেচার করেই, ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন তারা।

দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনে অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে সরাসরি (গ্রেড-১) এর চেয়ারে বসেন (এস.এম) (গ্রেড-৩) স্টেশন মাস্টার শুখান পুকুর (এ.বি.এম) জিয়াউর রহমান। চতুর এই স্টেশন মাস্টার, সাইনবোর্ডে পদবি নামের তালিকায় ভারপ্রাপ্ত বা অতিরিক্ত দায়িত্ব না লিখে, সরাসরি তার নাম লিখে রেখেছেন।

একজন (এস.এম) (গ্রেড-৩) স্টেশন মাস্টার কখনোই (গ্রেড-১) এর চেয়ারে সরাসরি বসতে পারেন না, নিয়ম অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির চেয়ারের পাশে অন্য একটি চেয়ারে বসে দায়িত্ব পালন করার নিয়ম থাকলেও তা তিনি করার প্রয়োজন মনে করেনি। যা জনমনে ও স্থানীয়দের মাঝে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে গুঞ্জন চলছে দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের মাঝে।

তাছাড়া রেলওয়ে স্টেশন দিনাজপুরে অতিরিক্ত দায়িত্বে প্রায় (৬বছর) অতিক্রম হয়েছে (এস.এম) (গ্রেড-৩) শুখান পুকুর, স্টেশন মাস্টার (এ.বি.এম) জিয়াউর রহমানের। বাংলাদেশ রেলওয়ে সংবিধান অনুযায়ী (জি.এস) ও (জি.আর) রুল পরিপন্থি বলে মনে করছেন সুধী, অভিজ্ঞ, সচেতন মহলসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষ। দ্রুত (গ্রেড-৩) স্টেশন মাস্টার (এ.বি.এম) জিয়াউর রহমানকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন দিনাজপুর জেলাবাসী, অন্যথায় দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনের আরও অবনতি আশঙ্কা করছেন তারা।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ে লালমনির হাট ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডি.আর.এম) আব্দুস সালাম, কর্মকর্তার সাথে (সোমাবার ২৪ জুন ২০২৪) বিকেলে, মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ‘‘এতো খাম খেয়ালিপনা ভালো নয়’’ বিষয়গুলি দেখে ডিভিশনাল ট্র্যাফিক ও কমার্শিয়াল অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুনকে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানাচ্ছি বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights