দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: তদন্তের নির্দেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি :

দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে বিদ্যালয় পরিবর্তনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক সেবার নামে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বোর্ডের চার কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাবিনা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত চার কর্মকর্তা-কর্মচারী হলেন: বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক আমিনুল হক, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক রেজাউল করিম চৌধুরী, বিদ্যালয় রেজিস্ট্রেশন শাখার সেকশন অফিসার মেজবাউল ইসলাম বকুল, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী শহিদুল ইসলাম শহীদ
ভুক্তভোগী শিক্ষক ও কর্মচারীদের অভিযোগ, এই চারজনের সমন্বয়ে গঠিত একটি চক্র বিদ্যালয় পরিবর্তন, নবায়ন, পাঠদানের অনুমতি, স্বীকৃতি, মঞ্জুরি ও কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক সেবা প্রদানে অনিয়মের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক আমিনুল হক এর আগে কলেজ শাখায় দায়িত্ব পালন করার সুবাদে বোর্ডের প্রশাসনিক কার্যক্রমে অভিজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে প্রভাব বিস্তার করতেন। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁকে ইতিপূর্বে বদলির আদেশ দেওয়া হলেও তা স্থগিতের পেছনে আর্থিক লেনদেন ছিল বলে অভিযোগ করেছেন কিছু সূত্র, যদিও এ বিষয়ে কোনো দাপ্তরিক নথি পাওয়া যায়নি।
সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক রেজাউল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে পরীক্ষা পরিচালনা এবং বিভিন্ন কার্যক্রমে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বোর্ডের কিছু কর্মচারী। এ ছাড়া ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা হলেও তিনি এখনও গ্রেপ্তার বা জামিন নেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সেকশন অফিসার মেজবাউল ইসলাম বকুল ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী শহিদুল ইসলাম শহীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে বোর্ডে অনিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ করেছেন সহকর্মীরা।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বোর্ডে একটি চিঠি আসার কথা শুনেছি, তবে চিঠিটি আমি দেখিনি। আমি বোর্ডে আমার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছি।
অন্যদিকে, বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক আমিনুল হক-এর সাথে যোগাযোগের জন্য তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ না করে সংযোগ কেটে দেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর এই অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights