দীর্ঘদিন কাজের পর নিয়োগে বাদ, বাগেরহাটে আন্দোলনে ২৮ কর্মী
বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নতুন কর্মী নিয়োগকে কেন্দ্র করে নিয়োগ বঞ্চিত অস্থায়ী কর্মচারীরা দুই দিন ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
চাকরির আশায় বছরের পর বছর নামমাত্র বেতনে কাজ করেও নতুন নিয়োগে স্থান না পাওয়ার অভিযোগ কর্মচারীদের। কর্মসংস্থানের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বিষয়টির কোনো সমাধান হয়নি বলে জানান আন্দোলনকারীরা।
বুধবার দুপুরে হাসপাতালের নিচতলা ও প্রধান ফটক এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন আয়া, সুইপার, ওয়ার্ডবয় ও অন্যান্য পদে কর্মরত এসব অস্থায়ী কর্মীরা। এ সময় তারা ওয়ার্ড মাস্টারের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন।
তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের সেবামূলক কাজে নিয়োজিত থাকার পরও নতুন আউটসোর্সিং নিয়োগে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়নি। আন্দোলনরত কর্মচারীদের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে তারা দীর্ঘদিন ধরে মাত্র দুই হাজার টাকা মাসিক বেতনে কাজ করে আসছেন। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নতুন নিয়োগে তাঁদের অগ্রাধিকার দেয়ার আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় আয়া, সুইপার, ওয়ার্ডবয় ও অন্যান্য পদে ২৮ জন দুই দিন ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
আন্দোলনরত কর্মী বৃষ্টি বলেন, যারা নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের বাইরে হাসপাতালের আরও কিছু কাজে লোকের প্রয়োজন রয়েছে। মানবিক দিক বিবেচনা করে আমাদের সেসব কাজে রাখার ব্যবস্থা করলে ২৮টি অসহায় পরিবার বেঁচে থাকার অবলম্বন পাবে। আমরা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে আমাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আবেদন জানাচ্ছি। একই কথা বলেন, লাবনী, নাহিদা মাহমুদা সুলতানা মঞ্জু, ফাতিমা, আয়শা, লিপিসহ অন্যরা।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এইচআরডির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ২৮ জনই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এইচআরডির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, জনবল সরবরাহের জন্য দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হয়। আমরা তাদের পুরাতন কর্মীদের রাখতে বলেছিলাম। তা তারা করেনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সরাসরি কাউকে নিয়োগ দেওয়া বা কাউকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সুযোগ নেই। তাই এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সরাসরি কিছু করার সুযোগ ছিল না।
