দুই সন্তানকে হত্যার পর হাওরে ফেলে দেন বাবা, পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের ‘দেখার হাওর’র পৃথক স্থান থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের পর তাদের বাবা কামরুল হাসানকে আটক করেছে পুলিশ। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে নিজের দুই শিশুসন্তানকে হত্যার কথা তিনি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকায় দেখার হাওর থেকে ৯ বছর বয়সী এক ছেলে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। এর আগে, মঙ্গলবার একই হাওর থেকে সাত বছর বয়সী এক কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধার করে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ।

সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি রতন শেখ জানান, স্থানীয়রা হাওরে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাতে দিরাই থানার পেরুয়া-মধুপুর এলাকার কামরুল হাসানের দুই সন্তান মুহাদ্দিস (৯) ও তুলনা (৭) নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে দিরাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। শিশু দুটিকে নিয়ে বের হওয়ার পর কামরুল একা বাড়ি ফিরে আসায় স্বজনদের সন্দেহ হয়। বিষয়টি তারা পুলিশকে জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে কামরুল হাসানকে আটক করে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

দিরাই থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কামরুল স্বীকার করেছেন, রবিবার রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে তিনি নিজের দুই সন্তানকে হত্যা করে মদনপুর এলাকার সংলগ্ন দেখার হাওরের পানিতে ফেলে দেন। পারিবারিক অশান্তির কারণে দুই সন্তানকে হত্যা করেছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন তিনি।

ওসি আরও জানান, দেখার হাওর থেকে গতকাল ও আজ দুটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহ দুটির বয়স ও লিঙ্গ নিখোঁজ শিশু মুহাদ্দিস ও তুলনার সঙ্গে মিলে যাওয়ায় এগুলো তাদের মরদেহ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। স্বজনদের দেখিয়ে মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, কামরুলের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তার স্বীকারোক্তি সত্য প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে গ্রেফতার দেখানো হবে এবং আদালতে পাঠানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights