দুই সরকারি কর্মকর্তার ৩৬টি ভিলা, ভারতে তোলপাড়
অনলাইন ডেস্ক
ভারতের রাজস্থানের প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন জ্যেষ্ঠ আইএএস কর্মকর্তা ও তার আইপিএস স্ত্রী। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে রাজ্যের দুর্নীতি দমন ব্যুরো (এসিবি)।
অভিযোগ উঠেছে, শিল্প বিভাগের তৎকালীন অতিরিক্ত মুখ্য সচিব শিখর আগরওয়াল সরকারি পদের অপব্যবহার করে একটি বেসরকারি রিসোর্ট সংস্থাকে অহেতুক সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন এবং বিনিময়ে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে একাধিক বিলাসবহুল ভিলা কিনেছেন। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এসিবি সূত্রে জানা গেছে, এই অনিয়মের শিকড় ছড়ানো রয়েছে উদয়পুরের বুঝড়া এবং আলওয়ারের অজবগড় এলাকায়। তদন্তকারীদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের মার্চ মাসে উদয়পুরের বুঝড়ায় মোট ২০টি ভিলা কেনা হয়, যার মধ্যে ১০টি শিখর আগরওয়ালের নামে এবং বাকি ১০টি তাঁর স্ত্রী, আইপিএস কর্মকর্তা প্রশাখা মাথুরের নামে নিবন্ধিত হয়। প্রতিটি ভিলার আনুমানিক ক্রয়মূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা দেখানো হলেও প্রকৃত বাজারমূল্যের চেয়ে তা অনেক কম বলে দাবি করা হচ্ছে।
একই দিনে অর্থ দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থাটিকে বিশেষ আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়, যা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং পদের অপব্যবহারের বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছেন তদন্তকারীরা।
শুধু উদয়পুরেই নয়, আলওয়ারের অজবগড় এলাকায় অবস্থিত একই রিসোর্ট গ্রুপের আরও ১৬টি ভিলার মালিকানা নিয়েও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সেখানে আগরওয়াল ও তার স্ত্রীর নামে আটটি, তাদের দুই ছেলের নামে চারটি এবং শ্বশুড়-শাশুড়ির নামে আরও চারটি ভিলা কেনা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই দম্পতি ও তাঁদের স্বজনদের নামে মোট ৩৬টি ভিলার সন্ধান পাওয়া গেছে, যার লিখিত নথিপত্র অনুযায়ী ঘোষিত আর্থিক মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
আইএএস অফিসার শিখর আগরওয়াল এর আগে উদয়পুরের জেলা কালেক্টর এবং রাজস্থান রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের চেয়ারম্যানের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এসিবি খতিয়ে দেখছে, বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে থাকাকালে তাঁর নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো কীভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক সংস্থাকে লাভবান করেছিল এবং সেই সুবিধার বিনিময়েই এই সম্পত্তিগুলো অর্জিত হয়েছিল কি না।
রাজস্থান দুর্নীতি দমন ব্যুরোর মহাপরিচালক জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী আগরওয়াল, তার স্ত্রী এবং হোটেল সংস্থার পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ইতিমধ্যেই প্রদান করা হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
