দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার ওপরে, বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের নদ-নদীর পানি আবারও দ্রুত বাড়ছে। দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নাগেশ্বরী উপজেলার মুড়িয়ারহাট এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকেছে। এতে অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, গত পাঁচ দিন ধরে জেলার সব নদ-নদীর পানি ওঠানামা করলেও রোববার মধ্যরাত থেকে আবারও পানি বৃদ্ধি শুরু হয়। সোমবার সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দুধকুমার নদের পানি ৮৯ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পরে সন্ধ্যা ৬টার হিসাবে পাটেশ্বরী পয়েন্টে নদীটির পানি আরও বেড়ে বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

এদিকে তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি ৭৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে সকালে বিপৎসীমার ৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও সন্ধ্যায় তা সামান্য কমে বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার নিচে নেমে আসে।

এ ছাড়া ধরলা নদীর শিমুলবাড়ী পয়েন্টে পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং সেতু পয়েন্টে ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া, হাতিয়া ও চিলমারী পয়েন্টেও পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি বাড়ায় সদ্য রোপণ করা আমনের বীজতলা, পাট, পটল, শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসলের জমি তলিয়ে গেছে। এতে নতুন করে ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।

সদর উপজেলার পাঁচগাছী এলাকার কৃষক খলিল মিয়া বলেন, বাড়ির পাশ পর্যন্ত পানি চলে এসেছে। গ্রামের সড়কে পানি ওঠায় চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। আমার পটলের খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। পরপর দুই দফা ধরলার পানি বাড়ায় এবার খেত রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

নাগেশ্বরী উপজেলার দুধকুমার নদের মুড়িয়ারহাট এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জেলার চার উপজেলায় বীজতলা, পাট ও শাকসবজিসহ অন্তত ২০৪ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মিয়াপাড়া, মালিয়ানি, সেনপাড়া, তেলিয়ানীপাড়া, পাটেশ্বরী, বোয়ালের ডারা, ধনিটারী ও বড়মানী গ্রাম ছাড়াও নাগেশ্বরী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাঞ্জুয়ারভিটা ও ফকিরটারী এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে।

বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, মিয়াপাড়া ও মুড়িয়ারহাট এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে এবং কয়েকটি স্থানে বাঁধ উপচে পানি ঢুকেছে। এতে ইউনিয়নের চারটি ওয়ার্ডের অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে জেলার সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। দুধকুমার নদের পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের একটি নিচু সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় সেখান দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জিও ব্যাগ ফেলে পানি প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights