দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে চরম ভোগান্তি

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
বিকালে ঘাট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মাহাড়কের দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক যানবাহন আটকা রয়েছে। এছাড়া দৌলতদিয়া প্রান্তে ৭ নং ফেরিঘাটের পল্টুল থেকে বাইপাস সড়ক পর্যন্ত অর্ধশত যানবাহন আটকা রয়েছে

ফরিদপুরের চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফের বাৎসরিক ওরশ মাহফিল শেষ হওয়ায় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট দিয়ে যাত্রীবাহী মানুষের চাপ বেড়েছে।

আজ বুধবার দুপুরের পর থেকে ঘাট এলাকায় যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করে। বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

বিকালে ঘাট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মাহাড়কের দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক যানবাহন আটকা রয়েছে। এছাড়া দৌলতদিয়া প্রান্তে ৭ নং ফেরিঘাটের পল্টুল থেকে বাইপাস সড়ক পর্যন্ত অর্ধশত যানবাহন আটকা রয়েছে।

প্রতিটি গাড়িকে ফেরি পেতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। দীর্ঘসময় ফেরিপারের অপেক্ষায় থেকে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও চালকরা।

৫টার দিকে ৭নং ফেরিঘাটের মানিকগঞ্জগামী তরী পরিবহনের যাত্রী ওসমান শেখ বলেন, “দুপুর আড়াইটার পর ফেরিঘাট এলাকায় আসছি। আমরা দৌলতদিয়া মডেল স্কুল থেকে সিরিয়ালে পড়ি। সেখান থেকে ৭ নম্বর ঘাট এলাকায় আসতে দেড় ঘণ্টা সময় লেগেছে। ঘাটে এসে দেখি ফেরি নাই। মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া থেকে ফেরি এলে তখন ফেরিতে যেতে পারব। সেক্ষেত্রে আরও ঘণ্টাখানেক সময় লেগে যেতে পারে।”

ওরসফেরত যাত্রী কানিজ ফাতেমা বলেন, “টাঙ্গাইল থেকে ফরিদপুর ওরশে গিয়েছিলাম। বাড়ি ফেরার সময় ফেরিঘাটে ভোগান্তি হচ্ছে। কখন ফেরিতে যেতে পারব সেটা জানি না। কয়েক’শ গাড়ি ফেরিঘাটে আটকা রয়েছে।”

ভোগান্তি প্রসঙ্গে বাস চালকরা বলেন, এই ভোগান্তি ঘাট কর্তৃপক্ষের সৃষ্টি। মূলত দৌলতদিয়া প্রান্তে শত শত গাড়ি থাকলেও ফেরি ছিল না। বেশিরভাগ ফেরি পাটুরিয়া প্রান্তে গিয়ে যানবাহনের অপেক্ষায় রয়েছে। সেখান থেকে ফেরি লোড হলে সেই ফেরিগুলো দৌলতদিয়া প্রান্তে আসবে। মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া প্রান্তে তেমন যানবাহন নেই। যে কারণে আমাদের দৌলতদিয়া প্রান্তে ফেরি নেই। যাত্রী ও চালকরা দুর্ভোগ নিয়ে উত্তেজিত হওয়ার পর পাটুরিয়া থেকে অল্প যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে দৌলতদিয়া আসে। এরপর দৌলতদিয়া প্রান্ত থেকে ফেরি লোড করে পাটুরিয়া প্রান্তে ছেড়ে যায়। এই কারণে আমাদের দেড় থেকে দুই ঘণ্টার বেশি ভোগান্তি হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের সহ-ব্যবস্থাপক মো. আলিম দাইয়ান বলেন, দৌলতদিয়া প্রান্তে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ একটু বেশি ছিল। যাত্রীদের ভোগান্তি হয়েছে তবে দীর্ঘ সময় ভোগান্তি ছিল না। যাত্রীদের ভোগান্তি রোধে আমরা মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া প্রান্ত থেকে দ্রুত ফেরি নিয়ে এসে দৌলতদিয়া প্রান্তের যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি হ্রাস করেছি। বর্তমানে দৌলতদিয়া প্রান্তে ১১টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights