দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এখনো মৃত্যুফাঁদ

দেবাশীষ বিশ্বাস, রাজবাড়ী ও মো. কাবুল উদ্দিন খান, মানিকগঞ্জ

দেশের ব্যস্ততম নৌপথ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী আর শত শত যানবাহন পারাপার হয় এ ফেরিঘাট দিয়ে। কিন্তু দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তাহীনতা আর তদারকির অভাবে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এখনো মৃত্যুফাঁদ হয়েই আছে। বিশেষ করে সম্প্রতি ৩ নম্বর ফেরিঘাট দিয়ে বাসডুবির ঘটনায় ২৬ জনের প্রাণহানির পরও ব্যবস্থাপনা ও সতর্কতার ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন ঘটেনি, সবকিছু চলছে আগের মতোই। ২৬ প্রাণহানির পর জেলা প্রশাসন থেকে গঠন করা হয়েছিল তদন্ত কমিটি। সেই কমিটি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বরাবর প্রতিবেদনও জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এ ঘাটের পন্টুনে ছিল না পর্যাপ্ত নিরাপত্তা রেলিং, পন্টুন থেকে সড়ক ছিল ঝুঁকিপূর্ণ, আর যানবাহন ফেরিতে তোলার ক্ষেত্রে মানা হয়নি নিয়ম। এদিকে গত মঙ্গলবার সকালে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, এত বড় দুর্ঘটনার পরও কোনো পরিবর্তন হয়নি ফেরিঘাট ব্যবস্থাপনায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এখনো যাত্রীবোঝাই বাসগুলো ফেরিতে ওঠানামা করছে। অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই ট্রাক ফেরিতে যাচ্ছে, ফেরিঘাট দখল করে থাকছে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক। ফেরিঘাটে দেখা যায়নি কার্যকর নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যারিকেডের দৃশ্যমান ব্যবস্থা। দেখা গেছে, দৌলতদিয়া প্রান্তে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে ৭টি ঘাট রয়েছে। ঘাটগুলোর মধ্যে ৪টি বন্ধ। ৫ নম্বর ঘাটে রাখা হয়েছে নতুন পন্টুন। ব্যবহার না হওয়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরে কোটি টাকা ব্যয়ে পন্টুনটি নষ্ট হচ্ছে ফেরিঘাটে। দৌলতদিয়া প্রান্তের ব্যস্ততম ফেরিঘাট ৭ নম্বর ফেরিঘাট। ওই ঘাটের পন্টুন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পন্টুন দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ফেরিতে উঠছে যাত্রীবাহী যানবাহন। ফেরিঘাটের স্থায়ী বাসিন্দা, পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দৌলতদিয়া প্রান্তে ফেরির স্বল্পতা, ঘাট ও পন্টুুনের সমস্যা, নিরাপত্তাহীনতা ও ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি, ঈদ ও উৎসবের চাপ সামাল দিতে ব্যর্থতাসহ টার্মিনালের অব্যবস্থাপনা রয়েছে। ফেরিঘাটের বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, আমার জন্ম দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে। ৫০ বছরের জীবনে আমি ফেরিঘাটের অব্যবস্থাপনা এত দুর্বল আগে দেখিনি। সংযোগ সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। গাড়িগুলো ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন না চালকরা। বেশির ভাগ পণ্যবাহী ট্রাকগুলো ফেরি থেকে সড়কে যেতে পারে না। এতে র‌্যাকারের সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। গাড়ির মালিকদের র‌্যাকার বিল দিতে হয়। এখানে দুর্নীতি আর লুটপাট চলে। ফেরিঘাটে আসা যাত্রী অনুপম হাওলাদার বলেন, ফেরিঘাটের পন্টুনে কোনো নিরাপত্তাবেষ্টনী বা রেলিং নেই। যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ফেরির পন্টুনের ওপর রিকশা ও অটোরিকশা দখল করে রাখে। নৌ পুলিশের দাবি- এটা দেখার দায়িত্ব থানার। আসলে ফেরিঘাট চলে মূলত হাওয়ার ওপর। মানিকগঞ্জ জেলার (আরিচা নদীবন্দরের) বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল আলম বলেন, দৌলতদিয়া প্রান্তের আমাদের ৪টি ঘাট প্রস্তুত আছে। আমরা আরও একটি ঘাট প্রস্তুত করার চেষ্টা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights